প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। এ স্কিমের কার্যক্রমে গতি আনতে ঋণের নাম পরিবর্তন, ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা যাচাই এবং পুনঃঅর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাসহ একাধিক বিষয়ে নতুন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নতুন নাম হবে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’। পূর্বে এটি ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, পূর্বে জারি করা বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৩, ৪ জুন ২০২৬; বিআরপিডি-৩ সার্কুলার লেটার নং-০১, ৭ জুলাই ২০২৬ এবং বিআরপিডি-১ সার্কুলার লেটার নং-৩২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কিছু নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এ স্কিমের আওতায় ঋণ নিতে আগ্রহী গ্রাহককে আগে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল স্থানান্তর বা ঋণের অর্থের অপব্যবহার করেননি— এ মর্মে ব্যাংকের কাছে একটি ঘোষণাপত্র দিতে হবে। অর্থাৎ ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়ে ব্যাংককে লিখিত ঘোষণা নিতে হবে।
এছাড়া ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহক প্রকল্প ঋণ গ্রহণ করছেন, সেই ব্যাংক থেকেই এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে স্কিমের আওতায় দেওয়া ঋণ বা বিনিয়োগের সব ধরনের লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অ্যাকাউন্ট অথবা রেভিনিউ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাকাউন্টের নাম যা-ই হোক না কেন, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানতে হবে।
প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রেও আগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার নং-০১-এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
পুনঃঅর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদ কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে পর্ষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ছকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে।
তবে কোনো কারণে ওই এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও অতিরিক্ত সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগের নির্দেশনাগুলোতে যেখানে ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে এখন থেকে ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি সংশোধিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত অংশগ্রহণকারী চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের অন্যান্য নির্দেশনাও সংশোধিত বলে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার এ স্কিম গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নির্দেশনার ফলে ঋণ বিতরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব ও সময়সীমা আরও স্পষ্ট হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন