প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দেশের হাইস্কুলগুলোর ক্লাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা হাইস্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। এর ফলস্বরূপ, দেশের প্রায় ৯০০ স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। মঙ্গলবার প্যারিস, মার্সেই, নিস, নান্তেসসহ বিভিন্ন শহরে বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করেন। তারা সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি বা বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, দুপুরের খাবারের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। তারা সরকারি স্কুলে আরও অর্থ বরাদ্দ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানান।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের একটি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুল অবরোধ করা হয়েছিল অথবা ওই দিন বন্ধ রাখা হয়।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলের একটি হাইস্কুল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহে ক্লাস বর্জন ও স্কুল অবরোধের ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মঙ্গলবার প্যারিস, মার্সেই, নিস, নান্তেসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি বা বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলের দৈনিক সময়সূচি পরিবর্তন।
স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেঁনে শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে দেন। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় ময়লার পাত্র দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আবর্জনায় আগুন ধরানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। পূর্ব প্যারিসের প্লাস দে লা নেশন এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট, বোতল ও অন্যান্য বস্তু মোকাবিলায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম নিয়ে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে যান।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর একটি হাত হারিয়েছে।
ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে এসব মামলায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশের অনেক স্কুলের অবকাঠামো অত্যন্ত খারাপ। প্যারিসের এক বিক্ষোভকারী জুলিয়েট আইমার্ড বলেন, কিছু স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব, পানি জমে ভবনের ক্ষতি ও ছত্রাকের সমস্যা রয়েছে। অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত হিটিং বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই।
এদিকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল।
বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন লেকর্নু। পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন