প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের রাস্তায় গতির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা এবং তার চার বছরের মেয়ে, যারা স্কুলে যাওয়ার পথে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর ইংল্যান্ডে। সোমবার, যুক্তরাজ্যের লিডস ক্রাউন কোর্টে বিচারক রে সিং দুই আসামির কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন, যেহেতু অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
জুরি প্যানেল তদন্তে জানতে পেরেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৭ বছর বয়সী গাড়ি বিক্রেতা জাসকমল রিয়াত এবং ২৯ বছর বয়সী হার্দিপ ভাচু একে অপরের সঙ্গে রেসিংয়ে লিপ্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে ভাচু গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং স্কুলে যাওয়ার জন্য স্কট হল রোড দিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মা ও মেয়ের ওপর গাড়িটি তুলে দেন। ভাচুর চালানো অডি টিটি আরএস গাড়িটির ধাক্কায় ২৭ বছর বয়সী জাস্তিনা হুলবোজ এবং তার চার বছর বয়সী মেয়ে লেনা সেপচর ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে রিয়াত একটি বিএমডব্লিউ এম১৩৫আই গাড়ি নিয়ে ভাচুর সঙ্গে রেসিং করছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
ইয়র্কশায়ার ইভনিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাচু ২০২৪ সালের জুন মাসে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর দায় স্বীকার করেন এবং তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, রিয়াত নিজের দায় অস্বীকার করলেও ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার ফুটেজে তার রেসিংয়ের প্রমাণ স্পষ্টভাবে মেলে। আদালত তাকে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে দুটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের বর্ধিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হবে।
আদালতে এই দুজনকে উদ্দেশ্য করে বিচারক রে সিং বলেন, ‘রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। একটি শক্তিশালী গাড়ি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে জনসাধারণের রাস্তায় সেটির গতির সীমা পরীক্ষা করতে হবে। চরম গতিতে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর পরিণতি অপূরণীয় হতে পারে, এবং এই মামলায় ঠিক তা-ই ঘটেছে।’
মামলার শুনানিতে জানা যায় যে, এই দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন না। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে পাশাপাশি থামার পর স্পোর্টস কারের জানালা দিয়ে তাদের মধ্যে কথোপকথন হয়। ভাচুর ড্যাশক্যামের ফুটেজ এবং রিয়াতের ফোনের রেকর্ডিং থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা একে অপরের গাড়ির ক্ষমতার প্রশংসা করছিলেন এবং রিয়াত তাকে রেসিংয়ের জন্য উসকে দিচ্ছিলেন।
এরপর তারা রেসিং শুরু করেন। প্রথমে রিয়াত গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যান এবং তার পেছনে আসেন ভাচু। ৪০ মাইল গতিসীমার রাস্তায় ভাচু প্রায় ৯০ মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের ফুটপাতের পাথরে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। জাগুয়ার শোরুমের কাছাকাছি ফুটপাতে গাড়িটি উঠে গিয়ে ওই মা ও মেয়েকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং এতে তাদের মৃত্যু হয়।
ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের মেজর কলিশন ইনকোয়ারি টিমের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর পল কনরয় বলেন, ‘এই দুজনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণে একজন নারী ও তার শিশু কন্যা মারা গেছেন। আমি জানি কোনো সাজাই এই মূল্যবান দুটি প্রাণ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথেষ্ট হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে জাস্তিনা ও লেনার পরিবারের জন্য একটি দীর্ঘ ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। ভাচু এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে, এবং আমি জানি যে বিচারের এই দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের ওপর কতটা মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আজ আমার সমস্ত সহানুভূতি এই পরিবারের সাথে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন