প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম এলাকার রহমতখালী খালে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ্যানি বলেন, "দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে একটি জাগরণ সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই এসব কাজকে অগ্রাধিকার দিলে অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা সম্ভব হবে।
উপকূলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, "মাছে-ভাতে বাংলাদেশের মানুষ, নদীমাতৃক দেশ। সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে সক্ষম হব।" স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজগুলো অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। মৎস্য অবমুক্তকরণও এসব কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তিনি দূরদর্শী চিন্তা থেকে খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সেটি ছিল একটি আন্দোলন ও বিপ্লব।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সামাজিকভাবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবেশেরও সম্পর্ক রয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন অ্যাপ ‘ভূমিদৃষ্টি’ তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী রহমতখালী খালকে লক্ষ্মীপুরের প্রাণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খালে প্রচুর কচুরিপানা ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন পানির প্রবাহও যথেষ্ট রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
পরে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পুকুরে অবমুক্ত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। রহমতখালী খালে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন