প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নে একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনা আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগকৃত পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা বৈধভাবে ক্রয় করা জমির মালিক এবং আদালতেই দলিলের বৈধতা প্রমাণিত হবে। অভিযোগকারী মোহাম্মদ সেলিম, পূর্ব খৈয়াছড়া ভূঁইয়াপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি জানান, পূর্ব মঘাদিয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৩৪-এর আওতায় আরএস দাগ নং ৯২৩৬, ৯২৩৮ ও ৯২৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিএস খতিয়ান নং ১৮৫৯-এর বিএস দাগ নং ৯৮৩৭, ৯৮৩৮ ও ৯৮৩৯- এই মোট ১৪ শতক জমির ওপর দীর্ঘ দিন ধরে তাদের চলাচলের রাস্তা রয়েছে।
মোহাম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ তসলিম, মোহাম্মদ নবী ও মো. শাহাবুদ্দিনসহ অন্যান্যরা জোরপূর্বক ওই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ সম্পর্কিত মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদ সেলিম, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় আদালতে গৃহীত হয়। মামলার নাম্বার ৫৫৬/২০২৬ এবং দায়েরের তারিখ ১৪ জুন ২০২৬।
বাদীপক্ষের দাবি, আদালত এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছে এবং মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সেইসাথে চলাচলের রাস্তা বাধামুক্ত করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও আদালত দিয়েছে। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের দাবি, তারা ১৯৭৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিবন্ধিত ২২৩৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, নূর মোহাম্মদ, সিরাজুল হক, জালাল আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আজব খাতুন, বাগিচা খাতুন, বামজা খাতুন এবং সকিনা খাতুনসহ উত্তরাধিকারীরা ১০ দশমিক ৫০ শতক জমি বিক্রি করেছেন。
জমির মধ্যে আরএস দাগ নং ৯২৪০ এবং বিএস দাগ নং ৯৮৩৭ ও ৯৮৩৮ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের বৈধ দালের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। তবে বাদী মোহাম্মদ সেলিম জানান, প্রতিপক্ষ যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে, সেটি তাকে জাল বলে দাবি। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, দলিল জাল কি না, সেটি আদালতেই প্রমাণিত হবে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, চলাচলের পথ এবং জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আদালতের নির্দেশনা তাদের পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং চলাচলের রাস্তার অধিকার—এসব বিষয় বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন