প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেয়ারের দামে বড় ধরনের উত্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
চুক্তিভিত্তিক চিপ উৎপাদন ব্যবসার ব্যয়বহুল সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যবহারের জন্য আবশ্যক।
একসময় বিশ্ব চিপ শিল্পে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ইন্টেলের। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভিত্তিক চিপ উৎপাদন ব্যবসায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।
শিল্পের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টিএসএমসিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন কারখানা এবং উন্নত প্যাকেজিং সক্ষমতা গড়ে তোলার তৎপরতা চলছে ইন্টেলের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, ইন্টেল শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
শেয়ারপ্রতি ৯৫ ডলার অথবা তার বেশি দামে এই শেয়ার বিক্রি হতে পারে।
সোমবার ইন্টেলের শেয়ার ৯৭.৫২ ডলারে লেনদেন শেষ হয়েছিল। এই হিসাবে অফার মূল্য বাজারদরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ওভার-অ্যালটমেন্ট অপশন ব্যবহার করা হলে চুক্তির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।
সাধারণ কর্মঘণ্টার বাইরে ইন্টেলের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার ইন্টেলের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
কিন্তু সর্বশেষ বাজার বন্ধের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এএমডির তুলনায় ইন্টেলের শেয়ারের পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে।
এনভিডিয়া এবং ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্সেরও এ সময়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ উত্থান হয়েছে।
বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, ইন্টেলের শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের সুযোগও বেড়েছে।
এজে বেলের বিনিয়োগ পরিচালক রাস মোল্ড বলেছেন, ২০১০-এর দশকে ৮২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাইব্যাকের কারণে ইন্টেল একটি পুঁজিনির্ভর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
ভৌত প্রকৌশলের পরিবর্তে আর্থিক প্রকৌশলের ওপর বেশি মনোযোগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যালান্স শিট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এরপর আগস্ট থেকে শেয়ার দাম পাঁচ গুণ বেড়ানোর পর ইন্টেলের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া যৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের দিকে ঝোঁক বাড়ায় সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউর চাহিদা ইন্টেলের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করেছে।
এর ফলে জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।
এর আগে বড় কোনো বহিরাগত ক্রেতা পাওয়া না গেলে নতুন প্রযুক্তি স্থগিত হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল ইন্টেল।
পরে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের ১৪এ উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ চিপ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইন্টেলের ফাউন্ড্রি ইউনিট টেসলাকে গ্রাহক হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাপলকে ১৪এ গ্রাহক হিসেবে পাওয়ার এবং আরও একজন বড় গ্রাহক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করার পর এ সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
ইন্টেলের সঙ্গে প্রসেসর তৈরির বিষয়ে অ্যাপলও আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
গত মাসে আয়ারল্যান্ডে চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ৫ বিলিয়ন ইউরো বা ৫ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টেল।
এই অর্থ ২০২৬ সালের পরিকল্পিত মূলধনী ব্যয়ের ২৫ শতাংশেরও বেশি।
এদিকে, ইন্টেল আন্ডাররাইটারদের ৩০ দিনের একটি বিকল্প দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এর আওতায় তারা অফার মূল্যে ছাড় বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত শেয়ার কিনতে পারবেন।
জেপি মরগান সিকিউরিটিজ, গোল্ডম্যান স্যাক্স, মরগান স্ট্যানলি ও সিটিগ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটস যৌথ বুক-রানিং ম্যানেজার হিসেবে চুক্তিটিতে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন