প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত এই উদ্যোগকে একেবারে অগ্রহণযোগ্য মনে করে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সোমবার, গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল, মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি হাতে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন যে, গত ৩ আগস্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ’র সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্য পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মনে করেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত হ’ল যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে চলে যায়, তাহলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে।
গোলাম পরওয়ার আবারও বলেন, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, তা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে একজন প্রার্থী তার নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে।
সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়ে বলেন, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করার পরিবর্তে যদি ম্যানেজিং কমিটিতে ফের স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং দুর্নীতির সুযোগ আবারও সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি কখনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়। শিক্ষককে তাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাগত সক্ষমতা ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কারণ যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এজন্য জামায়াত সরকারকে এই উদ্যোগটি বাতিল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া, এনটিআরসিএ-এর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রভাব যাতে স্থান না পায়, এটি রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান হতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন