প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের দাম কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং দুটি নতুন ধরনের তামাক পণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।
নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো, যা ই-সিগারেট এবং ভেপ ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করে, বৈধকরণের ফলস্বরূপ এবং তামাকজাত দ্রব্যের সামান্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই মনে করছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাক কর বিষয়ক নলেজ হাব বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাশিতভাবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এবং পরামর্শকে এক মুহূর্তও উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহভাবে অবনতি ঘটাবে এবং দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন একটি নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজস্ব আয়কে বিবেচনায় নিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা প্রদান করায় মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছে।
প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাডভেলরেমের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানিয়েছিলেন দেশের জনস্বাস্থ্য এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু সরকার কেবল সিগারেটের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে। সিগারেটের ১০ শলাকার মূল্য নিম্ন স্তরের জন্য ৬০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা, তরুণদের জন্য মধ্যম স্তরের সিগারেট ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতিউচ্চ স্তরের জন্য ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা করা হয়েছে।
বাজারে সিগারেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয় নিম্ন স্তরের সিগারেট। এই স্তরের মূল্য মাত্র ২ টাকা অথবা ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। ফলে সামান্য মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন স্তরের সিগারেটকে সহজলভ্য করে তুলবে।
আরো বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর হার বৃদ্ধি করে।
কিন্তু নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধির ফলে ধূমপানের হার বৃদ্ধি পাবে এবং একই সাথে অন্যান্য স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা নিম্ন স্তরের সিগারেট সেবন শুরু করবে। এর ফলে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে।
বহুল ব্যবহৃত সিগারেটের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যকেও পূরণ করবে না। বরং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা অযাচিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে বাজেট প্রস্তাবনা থেকে ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল না করায় মূল্য কারসাজির সুযোগ পেয়ে যাবে এবং তামাক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও মুনাফা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে।
প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধতা প্রদান, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য বৃদ্ধি না করা জনস্বাস্থ্যে প্রশ্নের উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে নেতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ট্র্যাক ও ট্রেস ব্যবস্থার প্রচলন, সিগারেট এবং বিড়ির কাগজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ কিছু প্রস্তাবের প্রশংসা করে তারা বলছেন, এইসব পদক্ষেপ সিগারেটের অবৈধ বানিজ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন