প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা বাজারে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে, যা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কম। এর আগে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশ কমেছিল।
ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারসের দামও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৭ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্যও একটি ভূমিকা রেখেছে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বেড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, শ্রমবাজারের দুর্বলতা কিছুটা কাটছে।
এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত কী হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে। বাজার এখন বিশেষভাবে মূল্যস্ফীতির তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবার ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই দুই প্রতিবেদনের ফল ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেন, কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
তিনি বলেন, "মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হবে।" এর ফলে বন্ডের সুদহার বাড়তে পারে এবং সুদ না দেওয়া সোনার চাহিদা আরও কমে যেতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ দেখছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। ফলে উচ্চ সুদের প্রত্যাশা সোনার বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে সুদের হার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি চাপ অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফেড সুদের হার না কমালে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।
বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ দশমিক ৫৯ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৯৪ ডলারে নেমেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন