প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাজেট ঘোষণার পর বেশিরভাগ সময়ই বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। এর প্রভাব পড়ে জনজীবনে। তাই শ্রমিক, ছাত্র, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবার চোখ বাজেটের দিকে। তারা শান্তিতে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চায়। একই সাথে, তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
জীবিকার তাগিদে নরসিংদী থেকে সপ্তাহে কয়েকদিনের জন্য রাজধানীতে আসেন মোহাম্মদ আলী। তার সংসার চলে তিন চাকার রিকশার প্যাডেলে। জিডিপি ও মূল্যস্ফীতি এসব তত্ত্বের বিষয়ে কিছুই জানেন না মোহাম্মদ আলী। তার কাছে বাজেট মানে প্রতিদিনের খরচের হিসাবের সঙ্গে বাজারের ফর্দের মিল।
তিনি বলেন, "জিনিসপত্রের দাম বেশি। আমি ৪০০ টাকার কাজ করছি, ১০০ টাকা গাড়ির ভাড়া জমা। ৩০০ টাকা থাকে। এটা দিয়েই আমার পরিবারের জন্য তো চলা সম্ভব নয়, তারা কী খাবে?"
আয় ও ব্যয়ের সাথে মাসের হিসাব মেলে না চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের। তাদের ওপর রয়েছে ব্যক্তিগত আয়করের মতো প্রত্যক্ষ করের চাপও। যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তেমন বাড়াচ্ছে না।
কিছু ব্যক্তি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে করটিকে কমানোর প্রয়োজন আছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে গিয়ে নির্ধারিত আয়ের মানুষ চাপে পড়ছেন। তাই আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সাধ্যের মধ্যে রাখার দাবি তাদের প্রধান।
একজন বলেন, "আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসাব কখনও মেলে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যে অবস্থা তৈরি করেছে, তাতে তো আমাদের চলা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।"
শিক্ষার্থীরা এবারের বাজেটে শিক্ষাখাত উপেক্ষিত না হওয়ার নিশ্চয়তা চান।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, "সরকার ব্যয় করছে, পরিবার থেকেও পয়সা খরচ হচ্ছে, কিন্তু কোনো দক্ষতা অর্জন করছি না। সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে।"
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রত্যাশা জানায় সাধারণ মানুষ। তারা চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা চান হাসপাতালগুলোতে।
একজন মন্তব্য করেন, "স্বাস্থ্য খাতে বাজেট রয়েছে কিন্তু সঠিক ওষুধ ও চিকিৎসা পাচ্ছি না। ট্রিপল নাইনে কল করলে অ্যাম্বুলেন্স আসে, কিন্তু তাদের আগমনের সময় নিশ্চিত করা দরকার।"
দিন শেষে স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা চান সাধারণ মানুষ। নাগরিক নিরাপত্তায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত বরাদ্দ।
একজন বলেন, "আরে নিরাপত্তাহীনতায় আছি আমরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বাড়ানোর প্রয়োজন।"
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ, নতুন সরকারের বাজেটে তার প্রতিফলন থাকার প্রত্যাশা সকলের।
এদিকে, ১১ জুন ঘোষণা করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন