প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংল্যান্ডের জো রুটের ব্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইনিংসের অভাব দেখা দিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক এ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। বরং, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং ১৪ হাজারের বেশি টেস্ট রানকে সামনে রেখে এই কঠিন সময়ও তিনি কাটিয়ে উঠবেন।
রুট টেস্টে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার সামনে কেবল শচীন টেন্ডুলকার রয়েছেন। কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে রুটের ব্যাটিং তার নামের সঙ্গে মানানসই নয়।
এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র দুবার পঞ্চাশের ঘর অতিক্রম করতে পেরেছেন। ঘরের মাঠে কোনো মৌসুমে তার গড় এত নিচে নামেনি। চলতি মৌসুমে রুটের গড় ২৯.৪৪, যা তার ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
এলবিডব্লিউ রুটের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে তার শেষ সাত টেস্টে তিনি ৯ বার লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন। এর মধ্যে সাতটি এলবিডব্লিউ ঘটেছে।
তবে রুট এটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার মতে, এবারের ইংলিশ কন্ডিশন ব্যাটারদের জন্য বেশ কঠিন। বিশেষ করে বলের মুভমেন্ট ব্যাটারদের কাজকে কঠিন করে তুলছে।
বিবিসির ‘টুডে অ্যাট দ্য টেস্ট’ অনুষ্ঠানে রুট তার এলবিডব্লিউ হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমি অনেক দিন ধরে খেলাটা খেলছি। এর আগে এমন সমস্যাও এসেছে, আর সেগুলোর সমাধানের পথও খুঁজে বের করেছি। এটাকেও আমি আলাদা কিছু মনে করছি না। এই কারণেই তো ১৪ হাজার রান করেছি। এই কারণেই প্রায় ১৫ বছর ধরে এই পর্যায়ে খেলছি।”
তবে এলবিডব্লিউর ধারাবাহিকতা নিয়ে কিছুটা হতাশা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার কয়েকটি আউট আম্পায়ার্স কলের ওপর নির্ভর করেছে।
“অবশ্যই এটা হতাশাজনক, (এলবিডব্লিউর) একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর সম্ভবত ৪টি আম্পায়ার্স কল ছিল, যেগুলো অন্য দিকেও যেতে পারত। আর বলও সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মুভমেন্ট করছে।”
রুটের নামের পাশে এখন ১৪ হাজার ২০৮ রান রয়েছে। তার সামনে কেবল একজন- ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে থাকা টেন্ডুলকারের সংগ্রহ ১৫ হাজার ৯২১ রান।
টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের করতে হবে আর ১ হাজার ৭১৩ রান। এলবিডব্লিউ সমস্যা রুটের জন্য নতুন নয়। গত বছর অ্যাশেজের আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও রুটের এই দুর্বলতা নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সফল হতে হলে রুটকে ‘সামনের পা থেকে সার্ফবোর্ড সরাতে হবে।’
ওয়ার্নারের সেই মন্তব্যের সময় পরিসংখ্যান রুটের বিপক্ষে ছিল না। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, মেলবোর্ন টেস্টে অ্যাশেজের চতুর্থ ম্যাচ পর্যন্ত, পেসারদের বলে মাত্র তিনবার এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন রুট।
কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলেছে। বক্সিং ডে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জাই রিচার্ডসনের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর নতুন একটি ধারা শুরু হয়েছে। এরপর মাত্র ১২ ইনিংসে পেসারদের বলে ৯ বার লেগ বিফোর হয়েছেন তিনি।
রুটের সমস্যাটি আরও স্পষ্ট। ডানহাতি পেসাররা অফ স্টাম্পের বাইরে বল ফেলে সেটি ভেতরের দিকে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, আর তাতেই বিপদে পড়ছেন ইংলিশ ব্যাটার। মজার ব্যাপার হলো, এই ৯ এলবিডব্লিউর একটিও খুব গতিময় বোলারের বলে নয়।
সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮৪ মাইলের আশপাশে থাকা পেসারদের বলেই তিনি বেশি বিপাকে পড়েছেন। তবে সমস্যার সমাধান খুঁজতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রুট।
“এই খেলায় কেউ আপনাকে কিছুই উপহার দেবে না। সবকিছুর জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। আমি সেটাই করে যাব। প্রতিনিয়ত আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, নিজেকে বদলাতে হবে, শিখতে হবে। এসব থেকে আমি কখনো পালাইনি, সামনেও পালাব না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন