প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছে কেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) বহনকারী বিমান পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। পাকিস্তানের দাবি, অনুমতি না দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং এটি সম্পূর্ণরূপে উড়োজাহাজের রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার ফলস্বরূপ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই ব্যাখ্যা প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন পাকিস্তানের বিদ্যমান নিয়মাবলী, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনসংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা মূলত ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ এবং আকাশসীমার অনুমোদন সম্পর্কিত একটি কারিগরি বিষয়। এই ধরনের সমন্বয়মূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজন হয়, যার কারণে কখনও কখনও নির্ধারিত ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান স্পষ্ট করে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ঘটনাটিকে কেবল কারিগরি প্রেক্ষাপটেই মূল্যায়ন করা উচিত এবং এমন কোনো প্রচার বা বয়ান তৈরি করা উচিত নয়, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে নীতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালানটি আসতে পারেনি।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাধারণত একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হয়। সময়মতো অনুমোদনের অভাবে ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর মাস থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের প্রক্রিয়া পুনরারম্ভ হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই সকল চালান সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন