প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেনিয়ার নানিয়ুকি শহরে ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৯ জুন) পুলিশের গুলিতে ওই বিক্ষোভকারী মারা যান। এই ঘটনাটি ঘটার পর, গত এক সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে মোট ৩ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারালেন।
মঙ্গলবার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে নানিয়ুকি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং গুলি ছোঁড়ে। এএফপি-র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শুনেছেন এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। অন্যদিকে রয়টার্সের সাংবাদিকরা একটি পুলিশের গাড়ির পেছনে ওই ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান। তবে পুলিশ এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিক্ষোভকারীরা কেনিয়ার পতাকা, প্ল্যাকার্ডসহ ইবোলা লেখা একটি প্রতীকী কফিন নিয়ে একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে এগোচ্ছিলেন। তারা সেখানে মার্কিন সহায়তায় চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারী প্রিসিলা ইমানি বলেছেন, লাইকিপিয়া কোনো আবর্জনা ফেলার স্থান নয়। সরকারকে আমাদের কথা শুনতেই হবে, কারণ এই কেন্দ্রের কারণে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
প্রস্তাবিত ৫০ শয্যার আইসোলেশন কেন্দ্রটিতে মার্কিন চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত আমেরিকানদের চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হচ্ছে। কঙ্গোর বুনিয়া শহর থেকে নানিয়ুকির দূরত্ব প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার। কঙ্গোতে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০০ জন মারা গেছেন। তবে কেনিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কঙ্গোর নিকটবর্তী অবস্থান এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই কেনিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়া অমানবিক হবে। তিনি বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একটি মানবাধिकार সংস্থার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, গত মাসে কেনিয়ার হাইকোর্ট জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিমানঘাঁটিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে বিবিসির স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন