প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে অতিক্রম করে গেছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একই সময়ের কাছে সর্বোচ্চ আদায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এনবিআর রোববার (২১ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে তুলনায় চলমান অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বেশি হয়েছে। এগুলোকে মধ্যে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ০২ শতাংশ।
বর্তমান অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও মে পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। এর ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং অর্জনের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস অনুবিভাগে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, ভ্যাট অনুবিভাগে ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল।
এদিকে জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের মোট আদায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।
এনবিআরের আশা, জুন মাসের শেষ ১০ দিনে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এভাবে অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে। যদিও এ পরিমাণ আদায় সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম হবে, তথাপি গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজস্ব আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সগুলি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি কর আদায় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কর ফাঁকি চিহ্নিত করার মাধ্যমে রাজস্ব পুনরুদ্ধার, অডিট মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের কার্যক্রম জোরদার, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম শক্তিশালী করার কারণে রাজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের উন্নয়ন এবং ব্যয় নির্বাহে প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণে এনবিআরের জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন