প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৫ জন আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
রোববার সকাল ১০টা থেকে তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে কাফনের কাপড় পরে এ কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন যে, রাতভর নির্বিঘ্নে অবস্থান করার পর সোমবার সকাল ৯টার দিকে অধিদপ্তরের কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদুল ইসলাম "আমার দেশ"কে জানান, এখানে এ ধরণের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সেখানে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নেত্রকোনার পূর্বধলার আমানুর রহমান "আমার দেশ"কে বলেন, তারা রোববার সকাল ১০টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন এবং সারা রাত সেখানে অবস্থান করেছেন। তিনি জানান, সকাল ৯টার দিকে অধিদপ্তরের কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা করেন এবং নারীদের ধাক্কা দেন ও গায়ে হাত তোলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও আমরা অনশন চালিয়ে যাচ্ছি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। হয় আমাদের মেরে ফেলুন, না হয় নিয়োগপত্র দিন।’
অনশনকারীদের দাবি হলো, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি। তারা দ্রুত তাদের সবার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করার দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের একজন মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে সুপারিশ পাওয়ার পরও আমাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। আমাদের কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা-ও জানি না। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।’
আন্দোলনকারীরা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ ও প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষা করা জরুরি।
এর আগে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর রেস্তোরাঁয় (ক্যান্টিন) সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, নিয়োগের চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন যাচাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে প্রথম তালিকায় বিপুলসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
সর্বশেষ হিসাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু ১ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে তাদের মধ্যে ৯১৮ জন যোগদান করেননি। অন্যদিকে ৫৫৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন শেষ পর্যন্ত যোগদান করেননি।
এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের পরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীদের একজন। অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের মধ্যেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। ফলে নতুন করে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অবস্থায় বারবার পদায়নের তারিখ পরিবর্তন এবং নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
নাম ও পদবি প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন