প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিপাইনের একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে দুই কিশোরের হাতে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, এক সন্দেহভাজনের ওপর অনলাইন গেমের প্রভাব রয়েছে। এই কারণে, ফিলিপাইন সরকার সাময়িকভাবে ‘গোরবক্স’ নামের একটি জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ জুন) ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে।
পুলিশ জানায়, ১৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোর নিজেদের স্কুলের বাথরুমে হামলার পরিকল্পনা করে। তারা একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হ্যান্ডগান নিয়ে সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত কিশোররা দাবি করেছে, তারা স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হচ্ছিল।
১৪ বছর বয়সী কিশোরটি তার খালার ৯ মিমি পিস্তল ব্যবহার করে, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা (তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে)। অন্য কিশোরটি তার দাদার নিরাপত্তা সংস্থার নামে নিবন্ধিত পিস্তল ব্যবহার করেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি নিয়মিত ‘গোরবক্স’ গেম খেলতো। এটি একটি হিংসাত্মক ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেম, যেখানে খেলোয়াড়রা বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে নৃশংস লড়াইয়ের মধ্যে মেতে ওঠে।
দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি আবয় পারাইসো মন্তব্য করেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় অনলাইন গেমের প্রভাবকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’
ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা সম্ভব নয়। কিন্তু ১৫ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ফিলিপাইনের সিনেটর ও শিক্ষাবিদেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিনেটর রিসা হন্টিভেরোস বলেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মগজধোলাই ও উগ্রপন্থী করে তোলার আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী সনি আঙ্গারা বলেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া নিয়মিত স্কুল শুটিংয়ের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ফিলিপাইনে দেখতে চাই না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন