প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়া বাহিনী একের পর এক মিসাইল এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবকে দুর্বল করে ফেলেছে। এবার তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি প্রচার যুদ্ধ শুরু করেছে। ইসলামের পবিত্র দুই শহর মক্কা এবং মদিনার অভিভাবক হিসেবে সৌদি আরব নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হুতিরা তাদের হামলাকে ইসলামের ওপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এবার ধর্মের খেলায় সৌদি আরবকে পরাস্ত করতে হুতিরা মাঠে নেমেছে। এই প্রচারণায় তারা কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
হুতিরা এমন কিছু রিপোর্টের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যা প্রমাণ করে যে, সৌদি রাজপরিবারের সহযোগীরা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার কাবা শরিফের গিলাফ জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত অভিশপ্ত দ্বীপে পাঠিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা সৌদি আরবের নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় যে, সৌদি নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ইসলামের বিশ্বাসের রক্ষক হিসেবে অযোগ্য। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে হুতিরা এই প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে। সৌদি আরবের দাবির বিপরীতে তারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনেছিল। সৌদি আরব এটিকে একটি জঘন্য হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মুসলিমদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে। তবে হুতিরা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। জবাবে তারা সৌদি রাজতন্ত্রের দিকেই ধর্মীয় বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে।
হুতি প্রেসিডেন্ট মাহদি আল মাশাত বলেছেন, "যারা কাবার গিলাফ এপস্টেইনকে দিয়েছিল, তারাই আসলে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।"
এই বার্তাটি হুতিদের নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এর মধ্যে এক্স প্ল্যাটফর্মে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার থাকা একজন ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতার মন্তব্য এবং একজন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতশিল্পীর গানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ এবং ঝুঁকি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা, যিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দলটিকে পর্যবেক্ষণ করছেন, তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে বলেছেন যে, দলটির যোগাযোগ ব্যবস্থা একসময়ের 'দুজন মানুষের দল' থেকে এখন একটি সুসংগঠিত মিডিয়া সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।
আল-বাশা বলেন, "তারা খুব ভালোভাবে যুক্ত।" তিনি আরও যোগ করেন যে, হুতি নেটওয়ার্ক এখন টেলিভিশন চ্যানেল, ওয়েবসাইট, রেডিও, সংবাদপত্র, ইমেইল ক্যাম্পেইন এবং অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে বিস্তৃত। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি ব্রিগেড বা দল রয়েছে। এই সমর্থক নেটওয়ার্কটি আদর্শগতভাবে এই দল এবং অন্যান্য ইরানি মিত্রদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তারা সবসময় পারিশ্রমিক পায় না। তারা হুতিদের আদর্শের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন