প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি এখনও রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত না হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নানা জটিলতা এবং সংকট অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রায় ৬০ কোটি টাকার দেশীয় তহবিলে হয়েছে। অবশিষ্ট ওয়ার্কশপ ভবনটি আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো আর্কিটেক্ট ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে ৪৮ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে, তবে বর্তমানে প্রেষণে নিয়োজিত মাত্র ৬ জন শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপালকে নবনির্মিত মহিলা পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন, ৬ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ তলা শিক্ষক ডরমিটরি, ২শ শয্যার ৪ তলা ছাত্রী নিবাস, ৬ ইউনিটের তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার এবং দোতলা ভিতের ওপর একতলা প্রিন্সিপালের বাসভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বুঝে নেওয়ার জন্য চিঠিও প্রদান করা হয়েছে।
একটি শহিদ মিনারও সরকারি খরচে নির্মিত হয়েছে। এছাড়া, ৬ তলা ওয়ার্কশপ ভবনের নির্মাণ কাজও ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই ভবনটিও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এবং বিশাল সীমানা প্রাচীর সহ দুটি প্রবেশদ্বারের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে ইইডি। বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহার ইনকিলাবকে জানান, "সরকারি নির্দেশনার আলোকে আমরা চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পলিটেকনিক থেকে প্রেষণে ৬ জন শিক্ষক এখানে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের পর অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জনবল মঞ্জুরি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯৫ জন শিক্ষকের পদ সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত প্রেষণে মাত্র ৬ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি বিভিন্ন শাখায় ৫৪টি পদের মধ্যে ৫ জনকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৪৫ কর্মচারীর মধ্যে ৬ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির আউটসোর্সিং স্টাফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজস্বখাতে স্থানান্তর না হওয়ার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাচ্ছে না এবং পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল এসএম সামচুন নাহার জানান, "কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবহিত।" তিনি উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজস্বখাতে স্থানান্তরে কিছু জটিলতা রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে।
বরিশালসহ ৩টি বিভাগীয় সদরে এ ধরনের তিনটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হলে স্বাভাবিক নিয়মে সবগুলো প্রতিষ্ঠান রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রিন্সিপাল সামচুন নাহার। উল্লেখ্য, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে ৩টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অনুমোদন লাভ করে, তবে নানা জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন