প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। তবে, বর্তমান অবস্থায় তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে, প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামোয় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার প্লেনারি অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে অজয় বাঙ্গা উল্লেখ করেন, "কর্মসংস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।" তাই, কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবেলাকে বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
অজয় বাঙ্গার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বেসরকারি পুঁজির ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব সক্ষমতার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রকল্প প্রস্তুতির গড় সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে নয় মাসে আনা হয়েছে। জটিল মূল্যায়নব্যবস্থার পরিবর্তে ২২টি সুনির্দিষ্ট সূচকের মাধ্যমে কাজের ফলাফল পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে যৌথ অর্থায়নের পরিসরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিন বছরে বেসরকারি অর্থায়নে বড় অগ্রগতি হয়েছে, এমন তথ্যও দেন অজয় বাঙ্গা। ২০২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন সংহত করতে সক্ষম হয়েছিল। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২৩০ বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে যাচ্ছে। এ ছাড়া, এক বছরে রেকর্ড ৯৬ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অর্থায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এসেছে বেসরকারি খাত থেকে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থায়ন দিয়ে এমন প্রকল্প ও অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। বাজার যেখানে এখনো বিনিয়োগের উপযোগী হয়ে ওঠেনি, সেখানে সরকারি অর্থ ও উন্নয়ন সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে, যেখানে বেসরকারি পুঁজি কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে পারে, সেখানে সেই বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তুতির সময় কমেছে এবং ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন তথ্যও জানান অজয় বাঙ্গা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ব্যালান্স শিটের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি) আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে, অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নের পাইপলাইন তিন গুণ বেড়ে ২৫০টি প্রকল্পে পৌঁছেছে। এসব প্রকল্পে মোট ১৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো।
অজয় বাঙ্গা জানান, ৩৫টি দেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে আইবিআরডির পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি দেশ এখন আইডিএতে অনুদান প্রদানকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন