ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাসে রেড অ্যালার্ট


দিল্লিতে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাসে রেড অ্যালার্ট

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারি বৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ের পূর্বাভাসের কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে। নয়ডা, গুরুগ্রাম এবং গাজিয়াবাদে বৃষ্টি হয়েছে। দিল্লির করোলবাগ এলাকার ঝান্ডেওয়ালা মন্দিরের নিকট ভারি বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে এই পরিস্থিতি যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সকালের বৃষ্টির পর আগামী ছয় দিন দিল্লির আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। তবে এই সময়ে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর দিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

১৪ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। ওই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

এছাড়া ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এই দুই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া থেকে নয় মাসে ৪৫ হাজারের বেশি অভিবাসী ফেরত, শীর্ষে বাংলাদেশিরা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

এএম

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সরকার সংকটে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, তিন দিনে মোট ৯ ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, তিন দিনে মোট ৯ ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইটের বাতিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন দিনে মোট ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) বাতিল হয়েছে দুটি ফ্লাইট।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি ফ্লাইট।

বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মোট যাত্রীসংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১২ জন।

এর আগে, রোববার হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ রোববার রাতে চালানো হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় এক পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ওই ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এই সংঘাতের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে হুথিরা সতর্ক করে বলেছিল, কোনো বিমান সংস্থা সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে উড়োজাহাজ পরিচালনা করলে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর মধ্যেই শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাস্কের এক পোস্টে টালমাটাল আম্বানির সাম্রাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


মাস্কের এক পোস্টে টালমাটাল আম্বানির সাম্রাজ্য

ভারতের ইন্টারনেট বাজারে এক ধরনের অদৃশ্য লড়াই চলছে। একদিকে আছেন ইলন মাস্ক, অন্যদিকে মুকেশ আম্বানি। মাস্ক জানিয়েছেন, ভারতে স্টারলিংকের দাম হবে সাশ্রয়ী। তার এই মন্তব্যের ফলে দীর্ঘদিন ধরে একচেটিয়া ব্যবসা করা আম্বানির রিলায়েন্স জিও বিপদে পড়তে পারে। এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন জিও’র মূল প্রতিষ্ঠান দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও ছাড়তে যাচ্ছে। খবরটি এসেছে আল জাজিরার মাধ্যমে।

শনিবার, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ভারতে স্টারলিংক যদি বেশি দামি হয়, তাহলে কেউ এটি কিনবে না। সুতরাং, স্পেসএক্সকে দাম সাশ্রয়ী রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতা সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য উপকারে আসে। মানুষ বেছে নেওয়ার সুযোগ বেশি পায়। তার ভাষ্যমতে, আম্বানির মুনাফা কমবে, তবে ব্যবসা বন্ধ হবে না। মাস্ক অবশ্য ভারতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দাম উল্লেখ করেননি। দেশে মোবাইল ডেটার দাম প্রতি গিগাবাইট প্রায় ৭ দশমিক ৭৪ রুপি, যা বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর মধ্যে একটি।

কম দামে ডেটা দেওয়ার কৌশলেই ভারতে জিও বড় হয়ে উঠেছে। কেনিয়ার মতো বাজারে একই পথে হেঁটে মাস্কও স্থানীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোকে চাপে ফেলেছেন। বর্তমানে স্পেসএক্স নিজেই মোবাইল অপারেটর হিসেবে নামছে। তাদের শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সাম্প্রতিক কয়েকটি পোস্টে মাস্ক সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও আম্বানিকে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জিওকে সুবিধা দিতে বিশ্বের অন্যতম বড় ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে রাখা হচ্ছে।

শুক্রবার গভীর রাতে তিনি আম্বানিকে সরাসরি খোঁচা দেন। তাকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে সম্বোধন করে জানতে চান, তিনি কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন? মাস্কের এই সুর পরিবর্তন লক্ষণীয়। কারণ, মোদির সঙ্গে মাস্কের দীর্ঘদিনের উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। ভারত সরকার অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের বক্তব্য, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাত নেই। স্টারলিংক ও জিওসহ তিনটি স্যাটেলাইট প্রকল্পই চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান প্রতি ম্যাচে ২০০ রান করতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


পাকিস্তান প্রতি ম্যাচে ২০০ রান করতে চায়

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে হাসিমুখে মাঠ ত্যাগ করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তান ৮২ রানে বিজয়ী হয়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ফলে সিরিজটি হারানোর সম্ভাবনা নেই।

এটি অধিনায়ক হিসেবে ফারহানের প্রথম সিরিজ জয়। তবে তার ব্যক্তিগত এই সাফল্যের চেয়ে তিনি দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে বেশি আনন্দিত। ২০২৬ সালে এই ব্যাটিং স্টাইল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের জন্য পরিবর্তন আনবে। এখন দলটি প্রতি ম্যাচেই ২০০ রান করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল ধীর। তবে ফারহানের বিশ্বাস ছিল যে, দল ২০০ রানের বেশি করবে। তার সেই বিশ্বাস সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়। মাজ সাদাকাতের দুর্দান্ত ইনিংস এবং অধিনায়কের নিজের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ২১৫ রান সংগ্রহ করে। এটি তাদের নিজেদের মাটিতে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সংগ্রহ। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০২১ সালে নটিংহামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে ২৩২ রান ছিল তাদের সর্বোচ্চ।

ম্যাচের পর ফারহান মন্তব্য করেন, ‘পাওয়ারপ্লেতে বেশি রান না এলেও আমি নিশ্চিত ছিলাম, আমরা ২০০–এর বেশি করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালে আমরা একটি আলাদা টি-টোয়েন্টি দল। আমাদের ছক্কা মারার হার বেড়েছে। ব্যাটাররা ১৫০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করছেন। এভাবে চললে আমরা প্রতিবারই ২০০–এর বেশি রান করব। এই দুই ম্যাচে যে তীব্রতায় খেলেছি, পরের ম্যাচেও সেভাবেই খেলব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুপির পতন ঠেকাতে যেভাবে লড়ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৪ পি.এম


রুপির পতন ঠেকাতে যেভাবে লড়ছে ভারত

চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। তেলের উচ্চমূল্য এবং ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার অর্থ তুলে নেওয়ার কারণে রুপির ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ডলারের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারত সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রুপির মূল্য ধরে রাখার জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর ডলার ক্রয়ের পদ্ধতি পরিবর্তন এবং মুদ্রার দরপতনের ঝুঁকি এড়াতে আর্থিক চুক্তির নিয়ম কঠোর করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারতের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো—

তেল কোম্পানির ডলারের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা

রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেল কোম্পানির প্রতিদিনের ডলারের চাহিদা মেটানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করবে আরবিআই। এর ফলে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা কমবে এবং রুপির ওপর চাপও কমতে পারে। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। গত মে মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬ দশমিক ৯৬-এ পৌঁছায়, যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। মুদ্রাবাজারে সংকট দেখা দিলে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে সরাসরি তেল কোম্পানিগুলোকে ডলার সরবরাহ করে। আরবিআই জানিয়েছে, ১২ অক্টোবর থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়াম এই সুবিধা গ্রহণ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে কঠোর নিয়ম

কম্পানিগুলোর জল্পনামূলক লেনদেন কমাতে নিয়ম আরো কঠোর করেছে আরবিআই। একই সঙ্গে রুপির দরপতনের ঝুঁকি সামলানোর খরচও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর এসব পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ঝুঁকি সামলাতে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক চুক্তির বিপরীতে মুদ্রা ব্যবসায়ীদের ২০ শতাংশ অর্থ আলাদা করে রাখতে হবে। এ অর্থকে ‘বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি সংরক্ষণ তহবিল’ বলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে পণ্য বা সেবা কেনার মতো চলতি হিসাবের লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি সামলাতে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে বিদেশি শেয়ার বা ঋণে বিনিয়োগের ঝুঁকি সামলাতে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া মূল লেনদেনের প্রমাণ ছাড়াই করা যায়, এমন আর্থিক চুক্তির সীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে এ ধরনের চুক্তি সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত করা যেত। এখন সেই সীমা কমিয়ে ৫০ লাখ ডলার করা হয়েছে। বাতিল করা আর্থিক চুক্তি আবার নতুন করে করার সুযোগও বন্ধ করেছে আরবিআই।

সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে গত জুনে ভারত সরকার দেশটির বন্ডে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর আরোপিত সাড়ে ১২ শতাংশ কর তুলে নিয়েছে। একই সঙ্গে সুদ থেকে পাওয়া আয়ের ওপর ২০ শতাংশ করও বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টসকেও এসব কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে। আরবিআই জানিয়েছে, আরো বেশি ধরনের সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সীমা থাকবে না।

প্রবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ

বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে গত জুনে বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এর মাধ্যমে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো

রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানিগুলো যাতে আরো সহজে বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নিতে পারে, সে জন্য বিশেষ সুবিধায় মুদ্রা বিনিময়ের হার দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সুবিধা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চালু থাকবে।

শেয়ারবাজারে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়ানো

প্রবাসী ভারতীয়দের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ফেব্রুয়ারিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জুন থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

রপ্তানির আয় দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সময়সীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত জুনে এ সময়সীমা ১৫ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাস করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার কারণে গত বছর রপ্তানির আয় দেশে ফেরানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ মাস করা হয়েছিল।

সোনা ও রুপা আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো

গত মে মাসে সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ মৌলিক শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি অবকাঠামো ও উন্নয়ন শুল্ক। আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ফলে সোনা ও রুপা কেনার জন্য বিদেশে ভারতের যে অর্থ ব্যয় হয়, তা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোনা ও রুপা আমদানিতে কড়াকড়ি

গত মে মাসে সোনা ও রুপা আমদানির নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। গয়না রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত সোনা আমদানিতে নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০০ কেজি সোনা আমদানি করা যাবে। এ ছাড়া ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপার বার এবং রুপার অন্যান্য আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্যের আমদানি সীমিত শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

বিদেশভ্রমণ কমানোর আহ্বান

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তবে ভারত ভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। জ্বালানি সাশ্রয় এবং ব্যয়বহুল তেল আমদানি কমাতে তিনি মানুষকে বাড়ি থেকে কাজ করারও আহ্বান জানান।

মুদ্রাবাজারে লেনদেন নিয়ন্ত্রণ

গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে যতটা নিট খোলা অবস্থানে লেনদেন করতে পারবে, সেই সীমা কমিয়েছে আরবিআই। রুপির দর আরো কমিয়ে দিতে পারে, এমন লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল এ পদক্ষেপের লক্ষ্য। এসব লেনদেনের কারণে রুপির ওপর দরপতনের চাপ বাড়ছিল।

সব মিলিয়ে ডলারের চাহিদা কমানো, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর চাপ কমানোর মাধ্যমে রুপির দর স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে ভারত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%