প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্তব্য করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে। তবে গত দুই বছরে তাদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ছাত্রদের মতো শ্রমিকরা ক্ষমতার ভাগ দাবি করেননি, তারা শুধুমাত্র অধিকার ও মর্যাদা চেয়ে এসেছেন।
এখনো তাদের আশা পূরণ হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা সহ শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড তৈরি করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের বাঁচার জন্য পর্যাপ্ত মজুরি নির্ধারণ জরুরি।
বক্তৃতায় বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশে প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ বাস করছেন। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন সনদে বাংলাদেশের স্বাক্ষরের কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি নৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে সংসদে ভূমিকা রাখারও আশ্বাস দিয়েছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শ্রমিকরা হয়তো ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু গত দুই বছরে শোষণ-বৈষম্য অনেক বেড়েছে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েক লাখ শ্রমিক বেকারের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বেশি। এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হলে অভ্যুত্থান, ভোট ও গণতন্ত্র সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়বে।
শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন শ্রমিকদের অধিকারসংক্রান্ত ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, এসব ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
শ্রমিক নেতা ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সহসম্পাদক ফিরোজ আল মামুন মোল্লা, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মাস্টার, সরকারি প্রিন্টিং শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেন, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী, চুন্নু সিকদার প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন