প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল ও গ্যাস উত্তোলন প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘকালীন বিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিনি একটি টেলিভিশন ভাষণে ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং তেল প্রকল্পে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মাইলেই উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনার অনুমোদন ছাড়া ফকল্যান্ডস এলাকায় তেল ও গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। তিনি একটি ডিক্রি জারি করার পাশাপাশি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন আইন কংগ্রেসে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
মাইলেইয়ের ঘোষণার কেন্দ্রে রয়েছে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্প। ফকল্যান্ডসের কাছে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিতাস পেট্রোলিয়াম। আর্জেন্টিনা এই তেল উত্তোলনকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে।
তেল প্রকল্পের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মাইলেই। তিনি তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ এবং দক্ষিণ আটলান্টিকে আর্জেন্টিনার উপস্থিতি জোরদারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন।
ফকল্যান্ডসকে আর্জেন্টিনা ‘মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে দ্বীপপুঞ্জটির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। অন্যদিকে, দ্বীপগুলো বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি বজায় রেখেছে এবং দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। ২০১৩ সালের এক গণভোটে ৯৯.৮ শতাংশ ভোটার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
এদিকে, ফকল্যান্ডস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এই বিরোধে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মাইলেই তার ভাষণে ট্রাম্পের মন্তব্যকে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধের পর দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আর্জেন্টিনা অবশ্য ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি অব্যাহত রেখেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন