প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই মাসে নাজমুল হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত মো. নাজমুল (২৫) ওই সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর-ধানমণ্ডি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে, তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামান সরকার আদালতে, ওই হত্যা মামলায় তাকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।
অজয় করের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়টি নিয়ে। তবে আজ সেটি ভায়োলেট করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থী।
এদিন আদালতে শুনানির জন্য তাকে তোলা হয়। তার আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল সোহাগ সাইফুল, জাকির হোসাইনসহ অন্যরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতা করে শুনানি করা হয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নস্যাৎ করতে গত ২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি গুলি করে হামলাকারীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন নাজমুল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা স্থলে ভুক্তভোগীর সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত ৪০০/৫০০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।
আটক রাখার আবেদনে পুলিশ বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। জামিন পেলে এলাকায় সাধারণ জনগনের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন