প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ও আশপাশের অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) আল আমিনকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আল আমিন প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে, তবে সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগী মুখ খোলায় অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আল আমিন স্থানীয় প্রভাবের মাধ্যমে অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। চিকিৎসা খাতের নানা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাবসা বাইপাসে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মামুন নামে এক যুবককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে চাকরি না দিলে ওই যুবকের পরিবারে চরম অশান্তি দেখা দেয়।
শোনা যাচ্ছে যে, মামুনের সঙ্গে আল আমিনের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুনের আল আমিনের স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের ঘটনা ঘটলেও সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। তালাকের পরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাটকেলঘাটার জুজখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আল আমিনের বিরুদ্ধে দ্রুত অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরির নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে অল্প সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, আল আমিনের জমি-জমা ও স্ত্রীর নামে অন্তত দুটি বহুতল ভবন—একটি চারতলা এবং অন্যটি দুইতলা—নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে, আল আমিন কখনো জেলা পর্যায়ে সিএইচসিপি সংগঠনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই পদ ও সাংগঠনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আল আমিনের স্ত্রীর সরকারি চাকরি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, তার স্ত্রী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ওয়্যারলেস অপারেটর পদে যোগদান করেন। সরকার দলীয় তৎকালীন এক সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকজন স্থানীয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিয়োগের সময় বয়সসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নির্বাচন কমিশন থেকে দ্বিতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুই সন্তানের মা হয়েও কীভাবে সে এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পেয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত।
একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও এসেছে তাদের পক্ষ থেকে।
সচেতন মহলের অভিমত, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও বড় হতে পারে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আল আমিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন