প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য বেশ কিছু দেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এই বিরোধের ফলস্বরূপ, আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ঐতিহ্যবাহী ‘ফ্যামিলি ফটো’ বা যৌথ ছবি তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আয়োজন বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইউরোপের কিছু দেশের কর্মকর্তারা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া, আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই ফ্রেমে দাঁড়িয়ে ছবি তুলবে না।
কিছু দেশ ছবি তোলার আয়োজন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশ রুশ প্রতিনিধিদের পাশে ছবি না তোলার সিদ্ধান্ত জানায়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বৈঠকের পূর্বে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে লাভরভের কোনো যৌথ ছবি তোলা হবে না। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমানে স্বাভাবিক সম্পর্কের পরিস্থিতি নেই।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও একই অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা রাশিয়ার সঙ্গে এভাবে সম্পৃক্ত হই না এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই তা করছি না।”
অবশেষে ‘ফ্যামিলি ফটো’ তথা যৌথ ছবি তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়। অস্ট্রেলিয়া এই বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের সামনে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।
তিনি এই যুদ্ধকে নিষ্ঠুর ও অযৌক্তিক আখ্যা দেন। তার মতে, রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।
পেনি ওংয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার নিষ্ঠুর ও অবৈধ আগ্রাসনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে না নেওয়ার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। জি-২০ বৈঠকে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো এগিয়ে নেওয়া।
আটলান্টার এই বিরোধকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে নতুন বিভাজনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবার আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মতে, উদ্বোধনী অধিবেশনের পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। একই সঙ্গে জি-২০-তে পোল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়েও মস্কোর আপত্তি রয়েছে।
এছাড়া জি-২০-এর সদস্য দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবারের বৈঠকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে অন্য কয়েকটি দেশ আপত্তি জানিয়েছে। এসব মতপার্থক্যের কারণে শনিবার বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রথমবারের মতো অতিথি হিসেবে জি-২০ বৈঠকে অংশ নেওয়া পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, “আমাদের সামনে যুদ্ধ চলছে এবং সেই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোও একই টেবিলে বসেছে। ফলে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো খুবই কঠিন।”
তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আগামী মাসে ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের সম্মেলন সফল করতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কূটনীতিক।
এবারের বৈঠকে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দেশটি জি-২০-এর সদস্য নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার শুধু আনুষ্ঠানিক সদস্য দেশগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে জি-২০-এর স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। দেশটি জি-২০-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র সদস্য রাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির একাধিক বিষয়ে বিরোধ রয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা জি-২০-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করার সময় ট্রাম্প ও রুবিওসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশটির আয়োজিত বৈঠকগুলো এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী রোনাল্ড লামোলার মুখপাত্র ফিন্ডিলে কুনেনে বলেন, “আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি, আমাদের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন