প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আগামীকাল থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন না। ইরানের দূতাবাস "কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির" কথা উল্লেখ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দিল্লির সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস শনিবার (২৪ অক্টোবর) জানায়, ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্পিকার ও শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত ফোরামে "কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে" ঘালিবাফ অংশ নিতে পারছেন না।
তবে দূতাবাস জানিয়েছে, ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন ও অন্যান্য বৈঠকে উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে ইরান থেকে একটি প্রতিনিধি দল এই ফোরামে পাঠাবে। তারা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, বিশেষ করে সংসদীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ বজায় রাখবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ ও আতিথেয়তার প্রশংসা জানিয়েছে ইরান।
পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হতে থাকায় তেহরান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এবার শত্রুপক্ষের সাবমেরিন ক্যাবল এবং ডাটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলতে আরও হাজার হাজার সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তেল আবিবের অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিটরিনোভিচ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, "নেতানিয়াহু যে কোনো মূল্যে ইরানে হামলা চালাতে চান, এতে কোনো সন্দেহ নেই।" তিনি আরও জানান, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর স্পষ্ট জয় পাওয়া মানেই ইরানের ওপর হামলা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ফের আনুষ্ঠানিক সংলাপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরল এক প্রত্যক্ষ আলোচনায় ইরানের পক্ষে প্রধান রূপকার ছিলেন এই ঘালিবাফ।
সোম ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ব্রিকস ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য হলো: ‘জনমুখী উন্নয়নের জন্য পার্লামেন্টকে শক্তিশালী করা’। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত চলতি বছরের ব্রিকস কর্মসূচির এটিই শেষ আয়োজন, যা গত মাসের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছায়।
যদিও শীর্ষ সম্মেলনের আগের বৈঠকগুলোতে সদস্য রাষ্ট্র ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতভেদের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি—কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তারা বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। তবে মূল সম্মেলনে এমন একটি যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়, যেখানে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা এবং ইরানের ওপর হামলা বন্ধে ব্রিকসকে একটি “স্বাধীন ভূমিকা” পালনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
কাকতালীয়ভাবে, গত সপ্তাহে 'ইরান এয়ার'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহের আবদোলহাই সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে ওষুধ বহনের অনুমতি পাচ্ছে না তাদের সংস্থা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ইরানের এই আবেদনের পর 'দ্য ওয়্যার'-এর এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, নয়া দিল্লি সত্যিই ইরানি বিমানকে ভারত থেকে ওষুধ সংগ্রহের অনুমতি দেয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন