প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্যালিফোর্নিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং জাপানে সম্প্রতি বেশ কিছু ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জুন মাসের শুরুতে ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের কাছে ভূমিকম্পে ৩৭ জন মারা যান। এসকল বিপদের সময় লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এর ফলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েক সেকেন্ড সময় পায়।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, জাপান, তুরস্ক, রোমানিয়া, চীন, ইতালি ও তাইওয়ানের মতো কয়েকটি দেশে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
তবুও, ভেনেজুয়েলায় এমন কোনো জাতীয় ব্যবস্থা নেই। বুধবার রাতে সেখানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ। তবে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টের মাধ্যমে সেখানকার কিছু মানুষ ভূমিকম্পের কাঁপুনি শুরুর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে সতর্কতা পেয়েছিলেন।
গুগলের এই ব্যবস্থাটি মানুষের মোবাইল ফোনের সেন্সর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কার্যকরী হয়। বার্কলে সিসমোলজি ল্যাবের পরিচালক রিচার্ড অ্যালেন জানিয়েছেন, ২০২০ সালে চালুর পর থেকে এই সিস্টেমটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। তখন ২৫ কোটি মানুষ অ্যালার্ট পেত, আর এখন ২৫০ কোটির বেশি মানুষ এটি পাচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০টি ভূমিকম্পের সতর্কতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ফোনে পাঠানো হয়।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী লেখক পেরিক্লিস সানচেজ বলেন, তিনি ভূমিকম্প তার বাড়িতে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যালার্ট পেয়েছিলেন। এতে তিনি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন। সানচেজ জানিয়েছেন, বাইরে আসার পর তারা কাঁপুনি অনুভব করেন এবং তাদের বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি।
কলম্বিয়ার বোগোটায় বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার প্রবাসী ৩৬ বছর বয়সী ডায়োজেনেস লোপেজ তার ফোনে সতর্কতা পান। তিনি ম্যাপে দেখেন যে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তার নিজ শহরের কাছে। পরে তার বোন মেসেজ দিয়ে জানায় যে তাদের পরিবার নিরাপদে আছে। লোপেজ বলেন, চিলি বা জাপানের মতো ভেনেজুয়েলার মানুষের ভূমিকম্পের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস নেই।
কীভাবে কাজ করে এই সতর্কতা ব্যবস্থা: ভূমিকম্পের সময় কয়েক ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ তৈরি হয়। ‘পি-ওয়েভ’ (P-wave) সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট কম্পন সৃষ্টি করে। ‘এস-ওয়েভ’ (S-wave) একটু ধীর হলেও বড় ধরনের বিপজ্জনক কম্পন তৈরি করে। ‘এল-ওয়েভ’ (L-wave) সর্বশেষ আসে এবং এটি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক।
মোবাইলের সেন্সর প্রথম ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করলে গুগলের কেন্দ্রে সংকেত পঠায়। এরপর গুগলের কেন্দ্র আশপাশের অন্যান্য ফোনের তথ্য যাচাই করে দ্রুত অন্যান্য ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কতা পাঠিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ইউএসজিএস ‘শেকঅ্যালার্ট’ নামে একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করে। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এটি কাজ করে। এর বিজ্ঞানী রবার্ট ডি গ্রুট বলেন, বুধবারের ভূমিকম্পে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। বিপদ সম্পর্কে জানার একাধিক উপায় থাকা সবসময় ভালো বলে তিনি জানান।
১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু হয়। এখন মেক্সিকো সিটিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার মহড়াও দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জাপান ২০১১ সালে ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর তাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। ওই দুর্যোগে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। জাপানের এই সমুদ্রতলদেশীয় আধুনিক ব্যবস্থা (S-Net) ভূমিকম্পের সতর্কতা ২০ সেকেন্ড এবং সুনামির সতর্কতা ২০ মিনিট আগে দিতে পারে।
যারা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করেন, তারা সতর্ক হওয়ার জন্য সবচেয়ে কম সময় পান। অনেক সময় ভারী কাঁপুনি শুরুর আগে তারা অ্যালার্ট পান না। আর যারা দূরে থাকেন, তারা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বেশি পান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন