প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যে গভীর সংযুক্তি তৈরি করেছে, তা থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এবং দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, এফবিসিসিআই’র প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনিন আহমেদ, এনপিও'র মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান, ট্যুরিজম রিসার্চ ডেভেলপমেন্টের পরিচালক আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওভারল্যাপিং বা একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা উচিত। এ জন্য এডিপির আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের ওভারল্যাপিং রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, এনএসডি মূলত একটি রেগুলেটরি বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। এই দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখা যাবে না। যদি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপচয় কমবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপির বাস্তবায়নে যে ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
মুক্তাদির বলেন, উৎপাদনশীলতা কেবল শিল্পকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক ও উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রমাণ করেছে যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাই আমাদের মূল ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন