প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সার নিতে সকাল থেকে ডিলার পয়েন্টে ভিড় করেছিলেন কৃষকেরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও গুদাম খোলেনি ডিলার।
এমন অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার বের করে নিয়ে যেতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিলেও বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা এখনও চলছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজীর মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। তার ডিলার পয়েন্টে যথেষ্ট সার বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা।
রবিবার সকাল থেকেই সার নিতে ওই ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় এক পর্যায়ে তারা গুদামের দরজা ভেঙে সার বের করে নিতে শুরু করেন।
এ সময় কৃষকেরা ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। এসব বস্তায় মোট সারের পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। কিন্তু বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলনও এর চেয়ে কম ছিল। ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকেরা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬৮০ মেট্রিক টন ছিল। সে অনুযায়ী সার পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা আতঙ্কিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু মানুষ সার নিয়ে চলে যান। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন