প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এটি কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তখন দৈনিক গড় ভর্তি ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। অপরদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন, যেখানে দৈনিক গড় ১০ দশমিক ৭৯ জন। অর্থাৎ, দুই সময়ের হিসাব অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন কমেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফখরুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ হলেও ঝুঁকি এড়াতে পৌর এলাকায় আবারও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।”
গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সীতাকুণ্ডকে 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে উপজেলায় ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন, ডোবা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং পরিচালনা করা হয়।
চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তনয় মজুমদার বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কলেজ রোড ও লোকনাথ মন্দির এলাকার মতো স্থানগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কমার হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে এই হার ৮ শতাংশ। তবে উভয় পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগী কমলেও এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পেতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ওষুধের স্প্রের পাশাপাশি আক্রান্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ ও রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন