প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনার তদন্তের জন্য জামায়াতে ইসলামী একটি দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। জামায়াতের সূত্র থেকে জানা যায়, বৈঠকে পিরোজপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গঠিত কমিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং সংগঠনের কেউ এতে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখবে। তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মানিক পশারী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মানিক পশারী পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে বিচার চলাকালীন মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। তিনি নিজেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে চলে যান। দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মেয়ের বাড়িতেই মানিক পশারীর মৃত্যু ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যান। তবে তার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ স্থানীয় জামায়াতের বিরুদ্ধে উঠেছে।
তার স্বজনদের অভিযোগ, জামায়াত নেতাদের বাধার কারণে তাকে প্রকাশ্যে গার্ড অব অনার দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। মরদেহ দাফনের জন্য প্রথমে খোঁড়া কবর একদল ব্যক্তি ভরাট করে ফেলে। পরে মানিক পশারীর মেয়ে তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে বাড়িতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ দাফন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন