প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী ঢাকার কোলঘেঁষা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসনাবাদ, পারহাউজের পিছন এবং ‘সুপার ডাইন-১’ এলাকাটিতে এখন মাদকের এক অঘোষিত বিষাক্ত সাম্রাজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধ মাদকের পাইকারি ও খুচরা কারবার চালিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছে এক প্রভাবশালী দম্পতি ও তাদের পারিবারিক সিন্ডিকেট।
৪ মামলার আসামি দম্পতি ও পারিবারিক বলয়
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, হাসনাবাদ পারহাউজ এলাকার এই সিন্ডিকেটটি সাধারণ কোনো অপরাধ চক্র নয়—এটি পুরোপুরি একটি স্বজননির্ভর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই অপরাধ বলয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাথী ও তার স্বামী এনাম দম্পতি। একই সঙ্গে সরাসরি কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাথীর বোন বাপ্পি এবং তাদের চক্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শারমিন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও থানা সূত্রে জানা গেছে: প্রত্যেকের নামে চার মামলা: এই চারজন চিহ্নিত অপরাধী- সাথী, এনাম, বাপ্পি ও শারমিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের খাতায় এদের প্রত্যেকের নামেই অন্তত ৪টি করে মামলা ঝুলছে। রাতারাত অবৈধ টাকার পাহাড়: দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ মাদকের চালান বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে এই দম্পতি। জামিনের পরপরই পুনরায় অপরাধ: পুলিশ বা ডিবি একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এদের কারাগারে পাঠালেও, আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই এরা ফের হাসনাবাদের আস্তানায় ফিরে একই ব্যবসা শুরু করে।
নেটওয়ার্ক ও নিরাপদ রুট: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পারহাউজের পিছনের গলি এবং ‘সুপার ডাইন-১’ এলাকাটির ভৌগোলিক সুবিধাকে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এলাকাটিতে ছোট ছোট সরু গলি ও বিকল্প পথ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলেই চক্রটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি উঠতি বয়সের তরুণদের লক্ষ্য করে এরা নিয়মিত মাদকের হাতবদল ঘটায়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি ও স্থানীয়দের দাবি: কেরানীগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সম্প্রতি র্যাব-১০ এবং ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। সম্প্রতি কোন্ডা ও দোলেশ্বর এলাকায় বিশাল গাঁজার চালান জব্দ এবং চুনকুটিয়ায় ক্রাইম জোন ভেঙে দিলেও হাসনাবাদ পারহাউজ এলাকার এই পারিবারিক সিন্ডিকেটটি এখনও অধরা। এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং র্যাবের জিরো টলারেন্স অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। চলবে.............
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন