প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ওষুধের অভাব, চিকিৎসা পরীক্ষায় ভোগান্তি এবং লিফট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে বক্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার।" অথচ ময়মনসিংহসহ বৃহত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা উচিত।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বক্তারা উল্লেখ করেন, গত ২৪ অক্টোবর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক নারী রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা দিয়েছেন। বক্তাদের প্রশ্ন, "সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী না পাওয়ার এমন পরিস্থিতি কেন দীর্ঘদিন ধরে চলবে?"
হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েও বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এক্স-রের মতো সাধারণ পরীক্ষার জন্যও রোগীদের দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়। বছরের পর বছর যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো মেরামত বা নতুন যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, এ ধরনের চক্রের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রোগীরা যখন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হন, তখন এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগ আরও বাড়ায়। বক্তারা হাসপাতালকে পাচারচক্রমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
গত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানান বক্তারা। তাঁদের ভাষ্য, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রোগীদের হতাহত হওয়ার ঘটনা, আতঙ্ক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গণপূর্ত বিভাগের অধীনে পরিচালিত হাসপাতালের লিফট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, লিফট ব্যবহার করতে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা লিফট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-মুখ্য সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, সংগঠক আব্দুল হান্নান আল আজাদ, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, তানজিল হোসেন মুনিম, সজীব আকন্দ, সুশান্ত শীল, মো. আসাদসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশ থেকে হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন