শাহানুর আলম, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৬:০৮ পি.এম
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের জামের তলা নদীর একশো মিটার ব্রিজের পাশে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আজ এই অভিযান পরিচালনা করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তার।
অভিযানকালে নদী থেকে কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকর খুনা জালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে জব্দকৃত এসব জাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সখিনা আক্তার জানান, জনস্বার্থে এবং দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী-নালায় কেউ যাতে অবৈধ বা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করতে না পারে, সেজন্য কোনো অনিয়ম চোখে পড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এটি যেন একটি সিনেমার দৃশ্যের মতো। ব্যস্ত সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারের কাছে প্রিজনভ্যান থেকে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে নামিয়ে কিছুদূর হাঁটানো হলো। এরপর পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিজেই সেই আসামিকে গাড়িতে তুলে দিলেন। তবে এটি কোনো সিনেমার কাহিনী নয়—ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে। একটি প্রিজনভ্যান বংশালের প্রধান সড়কে উঠেছিল, যেখানে ২৯ জন আসামি ছিলেন। তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল।
বংশাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসে যানজটে আটকে যায় প্রিজনভ্যানটি। আর তখনই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
অভিযোগ উঠেছে, প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার নিজ হাতে ভ্যানটির গেট খুলে দেন। এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন দুর্ধর্ষ আসামি ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত পিচ্চি রাজাকে। একই সময়ে গাড়ি থেকে নামেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও।
প্রিজনভ্যান থেকে নেমে পিচ্চি রাজা সামনে হাঁটতে থাকেন। তার পেছনে এসআই প্রবীর কুমার ছিলেন। অন্যদিকে খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে প্রিজনভ্যানের সামনের অংশে, চালকের পাশের আসনে উঠে বসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে যাওয়ার পরিবর্তে খায়রুল বাসারকে চালকের পাশের আসনে এসির মধ্যে আরাম করে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের একটি দলও সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল।
প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটতে থাকেন। এর মধ্যে সেখানে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
একপর্যায়ে এসআই প্রবীর নিজেই পিচ্চি রাজাকে ওই প্রাইভেটকারের কাছে নিয়ে যান এবং তাকে গাড়িতে তুলে দেন। এরপর তিনি প্রিজনভ্যানে ফিরে যান।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, কী কারণে এমন একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার টিমের বিরুদ্ধে শুধু একজন আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগই নয়, বরং আরও গুরুতর দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো— ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে দেওয়া। এতে ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে পারতেন। দ্বিতীয়ত, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়াই কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই সময় খায়রুল বাসারও যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে তাকে আটকানোর মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পুলিশের হাতে থাকত না।
ফলে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি শুধু পুলিশের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নই তুলছে না, বরং প্রিজনভ্যানে থাকা অন্য আসামিদের নিরাপত্তা ও তাদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রমকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ও ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমকে আধুনিকীকরণ, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বাসস’কে জানান, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের জটিল ও বহুমাত্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবার পরিবর্তে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল অটোমেশনের পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আমদানিকারক ও তাদের মনোনীত অভ্যন্তরীণ সেবাদানকারী এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সরকারি ছুটির দিনসহ সার্বক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা বন্দরের পাওনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়ের জন্য ‘অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত জুলাইয়ে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানি কনটেইনারের ডেলিভারি অর্ডার ডিজিটালাইজেশনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে এখন আমদানিকারকরা কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন।
সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানবাহনের দীর্ঘ সারি কমাতে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালু করা হচ্ছে। ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট (ইআইআর) ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাক প্রবেশ, পণ্য বোঝাই ও বের হওয়ার সময়সূচি পূর্বনির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, কাস্টমসের নিলামজাত পণ্য সরবরাহ, বিশেষ ডেলিভারি কার্যক্রম এবং ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব লজিস্টিকস অংশীদারের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।
বন্দর সচিব বলেন, বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিংয়েও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্লটভিত্তিক ডিজিটাল পার্কিং টিকিট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয় ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া বন্দরের ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই’ প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ডও রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজ বন্দরে আসা, বিল পরিশোধ, কাস্টমস ছাড়পত্র থেকে শুরু করে পণ্য খালাস ও চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো বহুমাত্রিক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও অনুসরণযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে পণ্য খালাসে সময় কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গতি আনার পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের বন্দরগুলোর মতো স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর সমুদ্রপথের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাটে ভারতের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিজ্ঞ ব্যাটার হারমানপ্রীত কৌর। সম্প্রতি, তার নেতৃত্বে ভারত এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণপদক অর্জন করেছে।
গত বছর, হারমানপ্রীতের অধিনায়কত্বে ভারত প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, তিনি দলের সাফল্যের প্রধান কান্ডারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তায় হারমানপ্রীত উল্লেখ করেন, ‘নেতৃত্ব ছাড়া সিদ্ধান্তটি মোটেও সহজ ছিল না। এর সাথে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন সব মুহূর্ত যা সারাজীবন আমার সাথে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দল এবং ভারতীয় নারী ক্রিকেটের জন্য আমি আমার সবকিছু উজার করে দিয়েছি। রক্ত, ঘাম, সময় এবং আমার নিজের খেলা ও ব্যক্তিগত আকাঙ্খার অংশও।’
অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হারমানপ্রীত। তিনি বলেন, ‘অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
গত জুনে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত টানা দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর থেকেই হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আয়োজিত এক বৈঠকে হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হারমানপ্রীত ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে এবং ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
হারমানপ্রীতের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে স্মৃতি মান্ধানা এগিয়ে রয়েছেন। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে তিনি ৪৫ বলে ৭৯ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চার মাসের চোটের কারণে টেনিস থেকে দূরে থাকার পর ফিরে এসে প্রথম শিরোপা জিতেছেন কার্লোস আলকারাজ। মঙ্গলবার জাপান ওপেনের ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের জিরি লেহেচকাকে ৭-৬ (৭/৪), ৬-৪ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।
শীর্ষ বাছাই ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন আলকারাজকে টোকিওতে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৯ নম্বরে থাকা লেহেচকা বেশ কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে কাতার ওপেন জয়ের পর এটি প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা হাতে তুললেন আলকারাজ।
কবজির চোট কাটিয়ে ফেরার পর এটি আলকারাজের তৃতীয় টুর্নামেন্ট। এর আগে তিনি ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত খেলেন এবং লেভার কাপেও অংশ নেন।
আলকারাজ বলেন, “অনেক নেতিবাচক চিন্তা এ সময়ে মাথায় এসেছে। সুস্থ হয়ে ফিরতে পারব কি না, আগের মতো থাকতে পারব কি না। অনেক চিন্তা মাথায় এসেছিল, কিন্তু আমি সবসময় সেগুলো দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি।”
“আমি ও আমার দল জানতাম, যখন ফিরব তখন শতভাগ সুস্থ থাকব। আর যদি কিছু অনুভব করি, সেটি কোনো সমস্যা হবে না।”
এটি চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনসহ আলকারাজের তৃতীয় শিরোপা এবং ক্যারিয়ারের ২৭তম শিরোপা।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার হাঁটুর চোটের কারণে চলতি মৌসুম আগেভাগেই শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আলকারাজের এই জয় আসে।
ফাইনালে নামার আগে লেহেচকার বিপক্ষে আগের লড়াইয়ে আলকারাজ ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। চলতি বছরে নিজের প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ছিল লেহেচকার।
আত্মবিশ্বাসী লেহেচকা শুরুতেই আলকারাজের সার্ভিস ব্রেক করেন। ফলে শীর্ষ বাছাই স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে শুরুতেই অস্বস্তিতে ফেলেন তিনি।
প্রথম সেটের মাঝামাঝি সময়ে দীর্ঘ এক লড়াইয়ের পর লেহেচকার সার্ভিস ব্রেক করেন আলকারাজ। পরের গেমেই দুর্দান্ত শক্তিশালী টেনিস প্রদর্শন করেন।
তবে লেহেচকাকে সহজে ভাঙা যায়নি। টাইব্রেকারে প্রথম সেট জিততে আলকারাজকে পরপর দুটি অসাধারণ ড্রপ শট খেলতে হয়।
দ্বিতীয় সেটেও লেহেচকা আলকারাজকে বেশ সমস্যায় ফেলেন। তবে সেটের মাঝামাঝি সময়ে একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যান গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এরপর আর কোনো ভুল না করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাংহাই মাস্টার্সে খেলার কথা রয়েছে আলকারাজের।
গত বছর টোকিওতে শিরোপা জয়ের পর শেষ মুহূর্তে সাংহাই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন তিনি। সে সময় শারীরিক সমস্যা দেখিয়ে টেনিসের ব্যস্ত সূচি নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন আলকারাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ