প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার চরভাটেরা ও মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চর দখল নিয়ে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ফলে টেঁটাবিদ্ধ এক গৃহবধূর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশির ভাগই টেঁটা দ্বারা আহত হয়েছে। নিহত নারী হলেন মেঘনার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় গেলে চর বিনতপুর এলাকার আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের লোকজন মেঘনা নদী পেরিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এই ঘটনার জেরে বিকেলে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের চরভাটেরাবাসীদের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ফলস্বরূপ উভয়পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে চরভাটেরা গ্রামের আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আলীপুর ও বিনতপুর এলাকার আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে (৩৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত নারী আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার পরপরই তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মেঘনা নদীর এক পাশে তিতাস উপজেলা এবং অন্য পাশে মেঘনা উপজেলা। নদীর বিভিন্ন চর নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলতে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন