প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগের প্রেক্ষাপটে পুলিশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আজকের দিন থেকে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হলো, যা অনলাইন ভিত্তিক অপরাধ দমনে কাজ করবে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রচলিত পুলিশি পদ্ধতির বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি-চালিত ও জ্ঞান-ভিত্তিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের পুলিশি ব্যবস্থাকেও সেই অনুযায়ী বিকশিত হতে হবে। সাইবার পুলিশ ইউনিট বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত ও জ্ঞান-ভিত্তিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।”
নতুন এই ইউনিটটির পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি)-এর হাতে। প্রাথমিকভাবে, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং অতিরিক্ত ডিআইজিরা সাইবার পুলিশি কার্যক্রম তদারকি করবেন, আর জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা মনোনীত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সাইবার-সম্পর্কিত সেবা প্রদান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য থানাগুলোতে বিশেষায়িত উপ-পরিদর্শক, সহকারী উপ-পরিদর্শক এবং কনস্টেবলও মোতায়েন করা হবে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, এই ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন সদস্য থাকবে। প্রাথমিকভাবে, বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং জনবল কাঠামো সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।
সরকার সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পেশাদারদের চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সড নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিটের মধ্যে একটি বিশেষায়িত কারিগরি কর্মী বাহিনীও গঠন করছে।
মন্ত্রী বলেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিনান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক-ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল-মিডিয়া অ্যানালিস্ট, জরুরি-প্রতিক্রিয়া পরামর্শক এবং দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে পৃথক ও প্রতিযোগিতামূলক পারিশ্রমিক ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ করা হবে।
নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি-প্রশিক্ষিত সদস্যরাও এই ইউনিটে মোতায়েনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা দেশে ও বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে একটি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিও স্থাপন করা হচ্ছে, যা উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত সাইবার-তদন্ত সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত থাকবে।
এই ব্যবস্থা আর্থিক অপরাধ, অর্থ পাচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ভিত্তিক অপরাধ, অপতথ্য, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সম্পর্কিত চরমপন্থী কার্যকলাপের তদন্তে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন এই কাঠামোটি সাইবার-তদন্ত কার্যক্রমকে একত্রিত করবে, যা পূর্বে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট দ্বারা পৃথকভাবে পরিচালিত হতো। তিনি বলেন, “সাইবার তদন্ত পূর্বে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হতো। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট এই কার্যক্রমগুলোকে একটি একক, সমন্বিত কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসবে, যা আমাদের তদন্তের কার্যকারিতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় উন্নত করতে সাহায্য করবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিশেষায়িত ইউনিটটি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত এবং সাইবার স্পেসের অপব্যবহার মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। মন্ত্রী বলেন, সিআরপিসির মাধ্যমে এভিডেন্সের মাধ্যমে আমরা যেই বিচারকার্য পরিচালনা করতাম তার মধ্যে এখন অনেক বেশি পরিবর্তন এসেছে। সাক্ষ্য কম আইনে পরিবর্তন আসছে। আমাদের ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়ে যাচ্ছে প্রায় সকল ক্ষেত্রে। আগে কেমিক্যাল ল্যাবের প্রচলন বেশি ছিল। এখন কেমিক্যাল ল্যাবের পাশাপাশি ফরেন্সিক ল্যাব আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া, অন্যান্য অপরাধ, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, ফিনান্সিয়াল বিভিন্ন ক্রাইম ও সোশাল সিকিউরিটির ক্ষেত্রেসহ সাইবার রিলেটেড বিভিন্ন অফেন্সের ক্ষেত্রে আমাদের এই ফরেন্সিক ল্যাবের প্রয়োজন হচ্ছে এবং ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজন হচ্ছে। আশা করি ইনশাআল্লাহ সকলের সহযোগিতায় আমরা সফলকাম হব এবং সাইবার রিলেটেড সমস্ত অপরাধ সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সমস্ত অপরাধকে দমন করতে পারবো।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন