প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহান আল্লাহ সকল প্রাণী ও জীবের কথা শোনেন। যেখান থেকেই ডাকা হয়, তিনি সাড়া দেন। যখন কেউ আন্তরিকভাবে এবং বিগলিত মনে তাঁর কাছে কিছু চান, তখন তিনি তা কবুল করেন। এ কারণে আমাদের উচিত বেশি বেশি দোয়া করা। দোয়া মুমিনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ। এমন কিছু দোয়া রয়েছে, যেগুলো নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে পড়তেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পঠিত দোয়াগুলো উম্মতের জন্য একটি মহৎ শিক্ষা। এই দোয়াগুলো হলো-
হজরত উম্মে সালামা (রা.) একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়েন। তখন তিনি এই দোয়াটির কথা উল্লেখ করেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব; সাব্বিত ক্বলবি আ’লা দীনিক। এর অর্থ হলো: হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর দৃঢ় ও মজবুত রাখো। (তিরমিজি: ৩৫২২)
মহান আল্লাহ মানুষের অন্তরের একমাত্র পরিবর্তনকারী। এ কারণেই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য এবং উম্মতের জন্য শিক্ষা স্বরূপ এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।
হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় তার ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। তখন তিনি জায়নামাজে ছিলেন। নবীজি চাশতের সময় তার ঘরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি জায়নামাজে ছিলেন। নবীজি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘জুওয়াইরিয়া! আমি যাওয়ার পর থেকে তুমি কি এভাবেই ওজিফা আদায়ে ছিলে?’ তিনি বললেন, হ্যাঁ।
নবীজি তাকে বললেন, আমি তোমার পরে চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি এগুলোকে ওজন করা হয়, তবে এগুলোই তোমার কৃত সমস্ত ওজিফার চেয়ে বেশি ভারী হবে। আর তা হলো-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়া রিজা নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।
এর অর্থ হলো: আমি আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তার সৃষ্টিকুলের সংখ্যা, তিনি সন্তুষ্ট হওয়া পরিমাণ, তার আরশের ওজন সমপরিমাণ, এবং তার কথা লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ। (মুসলিম: ৭০৮৮)
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন,
سبحان الله وبحمده، أستغفر الله وأتوب إليه উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি; আস্তাগফিরুল্লাহ; ওয়া আতুবু ইলাইহি।
এর অর্থ হলো: আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার কাছে তাওবাহ করছি। (মুসলিম)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন