প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ৬০ দিন ছায়া তদন্তের পর পুলিশ চাঞ্চল্যকর আসমা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে। ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুইজন, ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮), গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আসমার চা দোকানে যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেনও হয়েছে। পূর্ব পরিচয়ের ভিত্তিতে তারা আসমাকে মোংলা থেকে দাকোপে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেমন কোনো আলামত ছিল না। তবুও সূক্ষ্ম তদন্ত চালানো হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নিহত আসমার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চা বিক্রেতা আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা বেগম (৩৯) দুই সন্তানের জননী এবং তার বাড়ি মোংলার মালগাজী এলাকায়। তিনি ফেরিঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আসমা। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে ১৬ আগস্ট মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার পরিবার।
পরে, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ওই সময় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত না হলেও; আলামত হিসেবে নাকফুল ও পরিধেয় কাপড়ের ছবি সংরক্ষণ করা হয়।
নৌ পুলিশের সংরক্ষিত ছবি-তথ্যের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ। নিখোঁজ আসমার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত কাপড়ের সঙ্গে অর্ধগলিত মরদেহের কাপড়ের সাদৃশ্য খুঁজে পায় তদন্ত দল। এছাড়া, বিশেষ ধরনের নাকফুলের ছবি দেখানোর পর উপস্থিত স্বজনরা মরদেহটি চা বিক্রেতা আসমার বলে নিশ্চিত করে।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ এবং নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে ধরা পড়ে ইকরামুল। পরে, তার দেওয়া তথ্যে ধরা পড়েন মীর আলী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন