প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাইকোর্ট স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী সাবেক কনস্টেবল আব্দুল আলীম সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। যৌতুকের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অপরদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি শামীম আল মামুনের দণ্ড সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ওপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন।
আসামিপক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কে এম এ আল ফাহাদ বিন সগীর।
আবদুল আলীম, যিনি কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে, এবং তার বন্ধু শামীম আল মামুন, আবুল হাশেমের ছেলে, এই মামলার আসামি। অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল আলীম ২০১১ সালের ৬ মে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সুমির বাবা তিন লাখ টাকা দেন। বাকি দুই লাখ টাকার জন্য আব্দুল আলীম প্রায়ই তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। একসময় তিনি সুমি আক্তারকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে আলীম তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে ঢাকার তুরাগ থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় শামীম আল মামুনের সহায়তায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমিকে হত্যা করা হয়।
আবদুল আলীম গ্রেফতার হওয়ার পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। নিহত সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় দণ্ডিত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর আব্দুল আলীমকে পুলিশ কনস্টেবল পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এই মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক খালেদা ইয়াসমিন দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিরা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিলও করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন