প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে গত ছয় মাসের মধ্যে অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে।
সোমবার, রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ছয় মাসে ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৬৩টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব পদ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনোনয়নবঞ্চিত এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের পুনর্বাসনের কেন্দ্রে পরিণত করেছে বিএনপি।
তিনি আরও জানান, গত ছয় মাসে দেশে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বিএনপিই ৬৭০টি ঘটিয়েছে। এসব সহিংস ঘটনায় এনসিপির নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, সরকার প্রথম থেকেই গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তিনি দেশের তৎকালীন অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকটের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিএনপি সরকারের আসার পরই তীব্র জ্বালানি তেল সংকট শুরু হয়েছে এবং তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গণপরিবহন, সেচ এবং সারসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের ৪৩ শতাংশ ঘাটতি থাকায় ঢাকায় বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গিয়েছে, যার কারণে একের পর এক রপ্তানি আদেশ হারানো যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন যে, ক্ষমতাগ্রহণের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা জাতীয় কমিটির সুপারিশগুলোও মানা হচ্ছে না। এখন যেকোনো সংকট তৈরি হলে আগের ফ্যাসিস্ট কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে, অথচ এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছিল।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরার সময় বলেন, কৃষকরা সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন না এবং তেমন হলে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি, ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে হামের প্রাদুর্ভাব এবং মহামারির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হলেও বর্তমান সরকার সংকট এড়াতে পারে না, এবং এমনকি কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তোলেনি। অন্যদিকে, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে দখলদারিত্ব প্রশংসিত হচ্ছে এবং বিরোধী মতাদর্শের ওপর হামলার পুরস্কৃত হলেও কোনো বিচার পাচ্ছে না কেউ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন