প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজনীতি
জ্বালানি সংকটের ৬টি কারণ তুলে ধরে ১৫ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেছেন, "বিএনপি সরকারের ‘পরিকল্পনাহীনতা এবং জ্বালানী ক্রয়ের সিদ্ধান্তহীনতা থেকেই’ বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং ‘এই অন্ধকার সরকারের তৈরি’।"
বুধবার তিনি গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তাঁর তথ্য ও প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলামের বিবৃতিটি নিম্নরূপ: বিএনপি ভবিষ্যৎ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, এটি জনগণের সরকারের হবে। কিন্তু বাস্তবে অলিগার্কদের সরকার গড়ে উঠেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছিল, 'লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা।' তারা দাবি করেছিল, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। এখন ছয় মাস পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভেঙে সরকার বিপরীত পথে অগ্রসর হচ্ছে। তারা বেসরকারিকরণের নামে জ্বালানী আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণে অলিগার্ক বসানোর চেষ্টা করছে।
এক. ইশতেহারের উল্টো পথে
বিএনপি ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে অবিলম্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এই আড়ালে কুইক রেন্টাল ও আইপিপির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছিল। অথচ, বর্তমানে বিএনপি তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতিই মানছে না।
গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সরকারের কাছে বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতের অনুমতি চায়। এরপরই ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসিকে মাত্র ৪ দিন সময় দিয়ে ১০ আগস্টের মধ্যে 'বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬' র খসড়া জমা দিতে বলেছে। এ প্রেক্ষিতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার জন্য চারদিনের সময় কি বিএনপির সুসাশনের নমুনা? ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে ১০ দিনে নামিয়ে এনেছে। ফলে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারবে না এবং দরদাতা সংকট তৈরি হবে। পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে, সিন্ডিকেটের দরজা খুলে যাবে।
দুই. ইতিহাস ফিরে আসছে
বিএনপি সরকারের সঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি আবারও সমার্থক হয়ে উঠেছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদেও এমন অসঙ্গত উন্নয়ন দেখা গিয়েছিল। দুই দশক পরেও তারা শিক্ষা নেয়নি।
তিন. টাকার অভাব? তথ্য বলছে ভিন্ন কথা
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য অর্থের যোগান নেই। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভ প্রায় ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.৯ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাস্তবে ডলার আছে। সমস্যা হলো ক্রয়ের টাইমলি শিডিউল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্ধারিত শিডিউল ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ হতে পারে।
চার. উৎপাদিত সংকট
বিষয়টি হচ্ছে, বিপিসিকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ক্রয় শিডিউলের অনুমোদন সময়মতো পরিশোধ করা হয়নি।
প্রশ্ন হচ্ছে, পছন্দের সরবরাহকারীর ব্যাপারে চাপ দিতে গিয়েই কি আমদানির শিডিউল বিপর্যস্ত হয়েছে? সরকারের পক্ষে বেসরকারি অলিগার্ক হাতে লাইসেন্স তুলে দেওয়া হবে।
পাঁচ. যুদ্ধের একমুখী অজুহাত টেকে না
এখন দেশের সেরা লোডশেডিং চলছে। ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১টায় ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড হয়। ৪১ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সরকার দায় চাপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ওপর, কিন্তু তথ্য বলছে যুদ্ধের আগেও পরিস্থিতি খারাপ ছিল।
ছয়. মহেশখালীর আগুন এবং জাতীয় সক্ষমতার প্রশ্ন
২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। ১৫ দিন ধরে দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এখানে প্রশ্ন রয়েছে যে, স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি না এবং জাতীয় সক্ষমতার প্রশ্নও উঠে এসেছে।
এলপিজির অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে রয়েছে। বর্তমানে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানত, মানুষ নিয়মিত শুল্কের মধ্যে জ্বালানির চাহিদা তোলা দৃষ্টিতে যথেষ্ট স্ত্রী হতে পারে। বিএনপি সরকারের হাতে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান নেই। বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এই পরিস্থিতিও সম্পর্ক রাখে।
বিএনপি'র পরিকল্পনা ও নীতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের নতুন সমস্যা সূত্র।
তাকে তাৎক্ষণিকভাবে (আগামী ৩০ দিন) কিছু প্রস্তাব দেনঃ
১. তড়িঘড়ি বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করুন।
২. আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ১০ দিন থেকে ৪২ দিনে ফিরিয়ে আনুন।
৩. বিপিসির সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ক্রয় শিডিউল অবিলম্বে অনুমোদন করুন।
৪. মহেশখালী দুর্ঘটনার স্বাধীন কারিগরি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করুন।
৫. জাতীয় নিরাপত্তার সাথে যুক্ত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে, জ্বালানির অভ্যন্তরীণ প্রকল্পের উন্নয়ন করা হবে।
এছাড়া ভূমিকা রেখেছিল ব্যাপক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব দেশের ইতিহাসে।
জনগণের স্বার্থে অপরাধের জন্য কোনো পদক্ষেপ কোনো গোষ্ঠীর প্রতি নয়, সরকারের প্রথম দায় জনগণের প্রতি।
সুতরাং, বিএনপি সরকার যতটা চেষ্টা করছে জনগণের ব্যবস্থাপনা সে তেমন সফল হতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন