প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া থেকে শুরু করে প্রণয়ে রূপ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা এবার পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের ওমান প্রবাসী যুবক আরিফ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন নীলফামারির ফেরদৌসী আক্তার (২২) নামের এক তরুণী।
নবমির ১৬ তারিখ থেকে ফেরদৌসী ওই যুবকের বাড়ির সামনে ৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উৎসুক জনতাও ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।
অথচ, বাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছেন। আরিফ এবং তার পরিবারের সদস্যরা অন্য কোথাও গেছেন। তরুণী明确ভাবে জানিয়েছেন, তিনি বিয়ের ছাড়া এখানে থেকে সরবেন না। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে গ্রাম পুলিশ রয়েছে।
ফেরদৌসী আক্তার নীলফামারির সৈয়দপুর থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মশরত ধলিয়া সর্দারপাড়ার মো. কালার কন্যা।
ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার তরুণীকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক হিসেবে অভিযুক্ত করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, তোহুর নামে এক এসআইয়ের ইন্ধনে ফেরদৌসী যুবকের বাড়ি ছাড়ছেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ হোসেন ওমানে থাকাকালীন প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ফেরদৌসীর সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস আগে, আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসলে ফেনির মহিপালে তাদের দেখা হয়। তরুণীকে সরাসরি দেখার পর আরিফের পছন্দ না হওয়ায় তিনি তাকে বুঝিয়ে সৈয়দপুরে তার পিতার বাড়িতে নিয়ে যান।
এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আরিফ। পরে ফেরদৌসী আরিফের বাড়ির ঠিকানা পেয়ে সেখানে আসেন।
এদিকে, আরিফের পরিবার খবর পেয়ে ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যায় এবং পুলিশকে ফোন করেন। এসআই তোহুর আহমদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাউকে না পেয়ে ফেরদৌসীকে গ্রামের পুলিশকে পাহারা দিতে নির্দেশ দেয় এবং চলে যায়।
এদিকে, তরুণীর কারণে যুবকের পরিবার ঘরে ঢুকতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠছে। নারগিস আক্তার বলেন, "আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক। আমাদের ছেলে ওমান পাঠাতে ধার দেওয়া প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করেছি। এখনো ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হ্যানিট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং এখন বিয়ের স্বপ্ন দেখছে।"
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু তরুণী বিয়ে ছাড়া ঘটনাস্থল ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন