প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় একটি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষায় গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর, বিশ্বব্যাপী সরকারি ও বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কিছু পরিষেবা স্থগিত রাখতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন নিজেদের সিস্টেমগুলো ঠিক করার জন্য।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলো শনাক্ত ও সেগুলো দূর করার লক্ষ্যে ‘পুরো সরকারজুড়ে’ কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রমের ফলে জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো বড় পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ চলার সময় কিছু সীমিত পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ইউরোপের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিভিন্ন কোম্পানিকে পিএইচপি-তে থাকা দুটি গুরুতর ত্রুটি নিরসনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পিএইচপি হলো একটি প্রোগ্রামিং ভাষা, যা ওয়ার্ডপ্রেস ও দ্রুপাল-এর মতো ওপেন-সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিশ্বের ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
পিএইচপি ফাউন্ডেশন, এই কোডিং ভাষাটির নেপথ্যে থাকা সংস্থা, তাদের সফটওয়্যারে বহু বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ত্রুটিগুলোর জন্য একটি প্যাচ প্রকাশ করেছে। ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের অবিলম্বে তাদের সিস্টেম আপডেট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনপ্রিয় আইরিশ সংবাদমাধ্যম দ্য জার্নাল-এর ওয়েবসাইট বৃহস্পতিবার সকালে সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, নিজেদের ‘সুরক্ষাব্যবস্থা’ জোরদার করার জন্যই তারা এমন পদক্ষেপ নেয়। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই-এর পরেই দ্য জার্নাল হলো দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত অনলাইন সংবাদ উৎস।
পিএইচপি-এর ত্রুটিগুলো উন্মোচন করেছে ওপেনএআই, গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা উইজ এবং আরেক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্যালিফ-এর দলগুলো।
প্রতিবেদন অনুসারে, পিএইচপি২শেল (PHP2Shell) নামে পরিচিত এই ত্রুটিগুলো আক্রমণকারীদের ওয়েবসাইট হ্যাক করার সুযোগ করে দিতে পারে। এছাড়া এর মাধ্যমে তারা মেমোরি থেকে এমন তথ্য পড়ে ফেলতে পারে, যার মধ্যে পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল বিষয় থাকতে পারে।
আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিভিয়ার গ্রুপের সিইও নাইজেল গ্রিন বলেন, ‘যেহেতু ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ পিএইচপি-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তাই এর ঝুঁকি এমন প্রায় সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়তে পারে যেখানে মানুষ অনলাইনে অর্থ ব্যয় করে।’
বুকিং প্ল্যাটফর্ম, মার্কেটপ্লেস, সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা, টিকিট বিক্রির সাইট, ডেলিভারি অ্যাপ এবং ইউটিলিটি পোর্টালসহ সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন