প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এর ঘরবাড়ি, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশন উন্নয়নে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ১ কোটি টাকা ৫ দিনের মধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিন পর সোমবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ এই অর্থ ছাড় করেছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত অর্থ অবমুক্তির চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে, অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের জন্য মোট ১০৯ লাখ টাকা বা ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে ৫ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।
সেই ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় আবু সাঈদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার ঘরবাড়ি এবং কবরস্থানসহ নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিকভাবে কাজ হয়।
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন মন্তব্য করেন, সরকার শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে, এটি একটি আনন্দের খবর। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানুষ পীরগঞ্জে এসে আবু সাঈদের বীরত্বগাথা ইতিহাস জানতে পারবে। নতুন প্রজন্ম এখান থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারবে।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, সরকার দেরিতে হলেও বাড়িঘর ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, এজন্য আমরা খুশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু আবু সাঈদের স্মৃতি নয়, সরকার যেন সব শহীদ পরিবারের পাশে এভাবে দাঁড়ায়।
জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। তার ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায় অর্থ ছাড় হয়েছে। সরকার চায় জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে ঘিরে গবেষণা ও চর্চা হোক, যাতে মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন