প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ন জেলার বাদনগর এলাকায় মহররমের শোভাযাত্রায় বিপজ্জনক এক স্টান্টের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (২৪ জুন) মহররম উপলক্ষে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রায় একটি গাড়িকে ক্রেনের সাহায্যে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে তুলে ধরা হয়। এরপর গাড়ির ভেতর থেকে ধোঁয়া, আগুনের ফুলকি ও কাচ ভাঙার দৃশ্য দেখা যায়, যা অনেকের কাছে বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছে। পুরো ঘটনাটি শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ঘটানো হয়।
পুলিশ জানায়, উজ্জয়নের বাদনগরের আদান এলাকা থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার সময় এই স্টান্ট প্রদর্শন করা হয়। ক্রেনে ঝুলন্ত গাড়িটির গায়ে ‘লে ফির আ গায়ে’ লেখা ছিল। গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে দুই যুবক লাল পতাকা নাড়ছিলেন। ঘটনাস্থলে ‘শেরে আদান আখড়া’ নামের পোস্টারও দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে আয়োজক শোয়েব খান, তালিম খান, জাহিদ খান এবং ক্রেনের মালিক গোপাল মালির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উজ্জয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) করণ দ্বীপ সিং জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে আতশবাজি রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে গাড়ির ভেতরে দ্রুতগতিতে রকেট ধরনের আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল। এর ফলে গ্যাস জমে কাচ ভেঙে যায় এবং বিস্ফোরণের মতো দৃশ্য তৈরি হয়। গাড়ির ভেতরে কেবল আতশবাজিই ছিল।’
পুলিশের দাবি, আয়োজকদের আগে থেকেই বিস্ফোরক ব্যবহার বা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হলেও কোনো ধরনের স্টান্ট প্রদর্শনের অনুমতি ছিল না।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। স্থানীয় বিভিন্ন আখড়ার মধ্যে দর্শক আকর্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই এমন বিপজ্জনক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে।
ভিডিওটি যে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট ও বিস্ফোরণসদৃশ ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইভাবে শাহজালালপুরার হুসাইনি আখড়ার কিছু ভিডিওও সামনে এসেছে, যেখানে তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ কসরত করতে দেখা গেছে।
যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে জনাকীর্ণ শোভাযাত্রায় এমন বিপজ্জনক আয়োজন কীভাবে অনুমোদন পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য ভুলেও এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন