প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাউল গানের আসর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’। এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এবার জগন্নাথপুর পৌরসভার কেশবপুর বাজারে গানবাজনা ও ইসলামবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদনটি জমা দিয়েছেন কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন কমিটির সদস্যরা।
আবেদনে বলা হয়েছে, কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে স্বাক্ষরকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈয়মুছ আলী, আনকার মিয়া, খালেদ মিয়া, সোহেল মিয়া, মো. রফিকুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আবু মিয়া, রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, এখলাক মিয়া, আবু তাহের, আওলাদ মিয়া, তারেক মিয়া এবং আরও অনেকে।
স্বাক্ষরকারীরা জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে কবরস্থানের পাশে কবি রাধারমণ দত্তের নামে কিছু ব্যক্তি গান-বাজনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন। তারা এই কার্যক্রমকে অনৈসলামিক মনে করছেন। এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইউএনওর কাছে গানবাজনার আয়োজন বন্ধের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কবরস্থানের পাশে গানবাজনা হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হতে পারে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে ওই স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইউএনওর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আসলে গানবাজনা বন্ধের আবেদন করা হয়নি। তারা একটি চিঠি দিয়ে বলেছেন, কেশবপুর গ্রামের কবরস্থানের পাশে যেন গানবাজনার আয়োজন করা না হয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সবার সঙ্গে কথা বলে কবি রাধারমণ দত্তের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে, যেন আরো সুন্দর সুপরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়।’
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকত আলীর বাড়িতে বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছিল। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
তবে ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’ উল্লেখ করে নারী শিল্পীদের নিয়ে একাংশের আপত্তিতে বাউল গানের আয়োজনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে সীমিত পরিসরে গানের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন