প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সউদী আরবের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক শ্রীলঙ্কান প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে, যিনি ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণে এই সাজা পেয়েছিলেন। কলম্বোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ধর্ম অবমাননা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে সউদী আরবের একটি আপিল আদালত ২৭ বছর বয়সী অনোজন শিবরাসা নামের ওই যুবককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই রায়ের ফলে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়, যা ক্ষমা প্রার্থনার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে।
বুধবার ফেসবুকে এক পোস্টে মন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র জানান যে, সউদী আরবের সর্বোচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করেছে। তিনি এই প্রচেষ্টার জন্য উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ ও আইনি দলকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে, গত জুন মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় হিন্দু পুণ্যার্থীদের অনুসরণকারী একটি কুকুরকে এক মুসলিম যুবক লাথি মারছে- এমন একটি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ইন্টারনেটে ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের এক পর্যায়ে এক ব্যবহারকারী একটি হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে শিবরাসা তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অপমানজনক একটি কমেন্ট লেখেন।
যদিও শিবরাসা দ্রুতই কমেন্টটি মুছে ফেলেন এবং একটি ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিও পোস্ট করেন, তবে তার সেই কমেন্টের স্ক্রিনশট তার নিয়োগকর্তা এবং সউদী কর্মকর্তাদের নজরে আনা হয়। এর ফলে জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে কি না, কিংবা তিনি কতদিন এবং কীভাবে আটক থাকবেন- তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সউদী রিয়াল (প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছিল।
শিবরাসার আইনি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতা ফায়জার মুস্তফা বিবিসি সিংহলাকে নিশ্চিত করেছেন যে, সউদী আরব মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। তিনি আরও জানান যে তারা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়টি পর্যালোচনা করছেন।
শিবরাসার পরিবার আগে জানিয়েছিল, গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাদের সাথে তার কোনো সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও তার জীবন রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন