প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের হলেও, বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। কৃষিভিত্তিক পণ্যের একটি বড় অংশ, যা প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ, এই অবস্থার জন্য দায়ী। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের সহযোগিতা চেয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক হালাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক মুসলিম দেশগুলোতে হালাল পণ্য রপ্তানিতে সহায়তার অনুরোধ জানান। উভয় পক্ষ একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) একজন মহাপরিচালক জানিয়েছেন, হালাল পণ্যের বাজার বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। দেশের নিজস্ব হালাল ভোক্তা বাজারের পরিমাণ প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলারের।
প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান বড়
হালাল মাংস রপ্তানিতে ব্রাজিলের বার্ষিক আয় ৫.১৯ বিলিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক কৌশল গ্রহণ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের ২-৩ শতাংশ দখল করতে সক্ষম হতে পারে, যদিও এটি একটি অনুমান এবং নিশ্চিত লক্ষ্য নয়।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার জাকিম হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অনুমোদন নবায়ন করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, উপযুক্ত ইকোসিস্টেম এবং স্বীকৃত সনদ দেওয়ার মতো একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষের অভাবই মূল প্রতিবন্ধকতা। একাধিক সনদ ব্যবস্থার কারণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই সর্বজনস্বীকৃত একটি সনদ ব্যবস্থার দাবি উঠেছে। এছাড়া, প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে আস্থার অভাব খাতটির বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বৈঠকে কনসাল জেনারেল বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ বিজনেস কাউন্সিল দ্রুত গঠনের তাগিদ দেন। এফবিসিসিআই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশিষ কুমার সরকার জানান, বিজিএমইএর আসন্ন পোশাক মেলায় দুবাইয়ের একাধিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। তিনি আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর পরামর্শও দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন