প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ভণ্ড পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক কট্টর ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম লালা প্রামাণিক (৪২)। তিনি মৃত মেছের প্রামাণিকের ছেলে এবং নিহত ভণ্ড পীর শামীমের একজন অন্ধ মুরিদ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান (স্থানীয়ভাবে ৫০০ বিঘা মাঠ নামে পরিচিত) থেকে ভণ্ড পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে নেয় তার অনুসারীরা। পরে সেটি তার প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ‘শামীমি বাবার দরবার শরিফে’ নিয়ে নতুন করে দাফন করা হয়।
পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরোনো কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দরবার শরিফ থেকে ওই ভণ্ড পীরের দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় আগের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ লালা প্রামাণিকের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, তদন্তে ওই ভণ্ড পীরের এক মুরিদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লালা প্রামাণিক ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে এই উদ্ভট ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করতেও রাজি হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অন্ধ ভক্তরা যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের উদ্যোগে ভণ্ড পীর শামীমের কবরটি ইট-সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার গুরুতর অভিযোগ ওঠে এই ভণ্ড পীরের বিরুদ্ধে। এর জেরে স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন তিনি। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং গণপিটুনিতে শামীম নিহত হন। পরদিন ১২ এপ্রিল জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। শামীম হত্যার ঘটনায় তার ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার চারজন এজাহারভুক্ত আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন