প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে কবর খুঁড়ে সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩২) মারা যান। তার মৃত্যুর দুই মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে তার লাশটি উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান, নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছলেহ উদ্দীন এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামসুল হক মিঠুসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একদল সদস্য।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে এবং পেশাগতভাবে তিনি একজন দর্জি ছিলেন। এছাড়া তিনি নারান্দী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলা সূত্রে উল্লেখ করা হয়, সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মো. গোলাপ মিয়া ও মো. মানিক মিয়ার পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে সাদ্দাম হোসেন ছোট আজলদী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যখন বাড়ির উঠানে পৌঁছান, তখন পূর্ব থেকে অবস্থান করা প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া, আজিজুল ও মানিকসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
এসময় আজিজুল হকিস্টিক দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যান্যরা দা ও লাঠি দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। উঠানে হইচই শুনে সাদ্দামের স্ত্রীসহ স্বজনরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ২৭ প্লাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় অপারেশন করা হয়। চিকিৎসক তখন বলেছিলেন, ৭২ ঘন্টা পার না হলে কিছুই বলা যাবে না। কিন্তু ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার পরেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে আবার তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে ১ মাস আইসিইউতে থাকার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে, নিজ বাড়িতে চিকিৎসা চলাকালীন, গত ২ মে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান সাদ্দাম। এরপর তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে এ মামলায় পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থান থেকে সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাদ্দামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন